1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
পাইকগাছায় হাসানকে পিটিয়ে হত্যা: নেপথ্যের কারণ খুঁজছে পুলিশ, আটক ১ ডুমুরিয়ায় মাগুরখালীতে গ্রাম আদালত বিষয়ক বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত: পুরুস্কার বিতরণ ও র‍্যালি সাংবাদিক রহিম রানার চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন সকলের কাছে কয়রায় প্রতিবন্ধীত্ব ও জেন্ডার অন্তর্ভুক্তিমূলক জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি হ্রাসে কর্মশালা ইসরায়েলে হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের ইসরায়েলের রাসায়নিক প্ল্যান্টে বিপ্লবী গার্ডের হামলা ইরানের হামলা, জরুরি বৈঠক ডাকলেন নেতানিয়াহু ঠাকুরগাঁওয়ের শূন্যরেখা থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ ডুমুরিয়ায় অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতা নাসিম ফারুক খান মিঠু

পাইকগাছায় হাসানকে পিটিয়ে হত্যা: নেপথ্যের কারণ খুঁজছে পুলিশ, আটক ১

  • প্রকাশিত : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ৪৮ বার পঠিত
paikgacha-marder-16711
  • শেখ দীন মাহমুদ ::

পাইকগাছার চাঁদখালীতে হাসান ওরফে কিং (৩৫) কে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্যে পরিবার ও স্থানীয়দের পরষ্পর বিরোধী বক্তব্যে রহস্য ক্রমশ ঘণীভূত হচ্ছে। মাদক সংক্রান্তে পূর্ব শত্রুতায় সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত হামলায় মৃত্যু? নাকি তুচ্ছ ঘটনায় মব সৃষ্টি করে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় তাকে? আর পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হামলায় নিহত হলে তার বারণই বা কি? এমন নানা প্রশ্ন বার বার ঘুরে ফিরছে এলাকাবাসী, প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।

পরিবারের দাবি, ঘরের পাশে মহিলাদের সামনে প্রস্রাবে বাঁধা দেওয়ার ঘটনায় বাক্-বিতন্ডায় জড়িয়ে মোবাইলে লোক জড়ো করে পরিকল্পিতভাবে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। এমনকি খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর পরও তাকে পেটাতে থাকে তারা। এরপর গুরুতর অবস্থায় হাসানকে উদ্ধার করে পাইকগাছা হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

অন্যদিকে স্থানীয় পশুর হাটের আদায়কারী আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন হাট শেষে তিনি হাট কালেকশনের ব্যাগে টাকা ব্যাগে নিয়ে হাট ইজারাদার নাজমুল হুদা মিন্টুর বাজার সংলগ্ন অফিসে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হাটের কর্ণারে পৌছালে হাসান কিং তাকে আঘাত করে টাকার ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে হাসানকে গণপিটুনি দেয়। যাতে মৃত্যু হয় তার। তবে বাস্তবতা জানান দিচ্ছে ভিন্ন কিছুর!

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঘটনাটির নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারে অন্তরায় ও মাদক বাণিজ্য কেন্দ্রিক বিরোধে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের শিকার হয় হাসান কিং।

রবিবার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত ঘটনায় চরম শিকার হাসানের নিহত হওয়ার ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত পরিচয় আরোও ৮/১০ জনকে আসামী করে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা মামলা দায়ের করেছেন। ময়না তদন্ত শেষে গতকালই তার মরদেহ এলাকায় পৌছালে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে ঘটনায় নাজমুল হুদা মিন্টুসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে স্থানীয় চাঁদখালী বাজারে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। সূত্র জানায়, এদিন বিকেলেই খুলনার লবণচরা এলাকা থেকে র‌্যাবের হাতে আটক হয় নাজমুল হুদা মিন্টু।

nazmul-16712

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ৭জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে হাসানের একটি গোলপাতার ঘরের সামনে তার স্ত্রীর সামনে কালিদাসপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস প্রস্রাব করতে বসলে হাসান এতে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। ঘটনার একপর্যায়ে কুদ্দুস মোবাইল ফোনে আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল, খোকন হাজীসহ আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয়। এরপর বাক্-বিতন্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে হাসানের ওপর হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বলেন, “আমার স্বামী শুধু ঘরের পাশে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর কুদ্দুস লোকজন ডেকে এনে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করে। এমনকি খবর পেয়ে পাইকগাছা থানার এসআই মঞ্জুর সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌছানোর পর তাদের উপস্থিতিতেই তারা তার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এলাকাবাসীদের।

তবে ঘটনার আরেকটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, হাসানের মৃত্যুর পেছনে শুধু তাৎক্ষণিক বাকবিতণ্ডা নয়, বরং এলাকায় মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধও নেপথ্যে কাজ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চাঁদখালী ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা ঘিরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে হাসান কেন্দ্রীক সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ঘটনাটি শুধুই প্রস্রাব করাকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে, তাহলে এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক লোকের সংঘবদ্ধভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলো কিভাবে? আবার মাদক বাণিজ্য কেন্দ্রিক বিরোধের অভিযোগও কতটা সত্যতা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, খুলনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আনিসুজ্জামান ও পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া।

চাঁদখালীতে হাসানের মৃত্যু এখন শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নয়; এটি স্থানীয় আধিপত্য, সম্ভাব্য মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ঘটনাটি কি কেবলই একটি বিরোধের তাৎক্ষণিক পরিণতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের লড়াই, মাদক সিন্ডিকেটের ভয়াবহ নির্মমতা!সেই উত্তর খুঁজছে স্বজন, এলাকাবাসী এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর