সুন্দরবনে মৌয়ালদের অপহরণের ঘটনায় নিজের নাম জড়ানোকে গভীর ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দাবি করেছেন কয়রার আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হাসানুর রহমান। সোমবার (১১ মে) বিকেল ৪ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রকৃত সত্য ঘটনা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাসান মেম্বর বলেন, গত কয়েকদিন ধরে একটি বিশেষ মহলে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে মৌয়ালদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। বনদস্যুদের সাথে আমার কোনো রকম সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আমার রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করতে একটি অশুভ শক্তি মৌয়ালদের ভুল তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।”সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য হাসানুর রহমান তার বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল কারণ ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, স্থানীয় শাহাদাত কবিরাজ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। ওই শাহাদাত কবিরাজের মেয়ের জামাই দস্যু বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য। শাহাদাত কবিরাজের মেয়ের জামাই বনদস্যু বাহিনীর এক সদস্য। মূলত তার শ্বশুরের ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর জন্য বনে আটকে রাখা মৌয়ালদের কাছে আমার নাম ব্যবহার করেছে।
দস্যুরা কৌশলে মৌয়ালদের মনে এই ধারণা দিয়েছে যে, আমার সাথে তাদের যোগাযোগ আছে যাতে সাধারণ মানুষ আমার ওপর আস্থা হারায়। মৌয়ালদের তোলা ‘টোকেন বাণিজ্য’ বা অগ্রিম চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বনে মধু সংগ্রহ বা মাছ ধরার ক্ষেত্রে বন বিভাগের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা জনপ্রতিনিধির টোকেন দেওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। যারা তার নামে টাকা দাবি করার কথা বলছে, তারা মূলত দস্যুদের সাজানো নাটকের শিকার হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাসানুর রহমান প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে। যদি একজন টাকার প্রমাণও কেউ দিতে পারে, তবে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। কিন্তু মিথ্যে অপবাদ দিয়ে একজন জনপ্রতিনিধিকে বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টাকে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। “সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অভিযুক্ত ‘বিপুল’ নামের কোনো ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না এবং তার সাথে কোনো ধরনের লেনদেনের প্রশ্নই আসে না। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে তিনি প্রশাসনের সকল অভিযানে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।