- নিজস্ব প্রতিনিধি ::
বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী ও পাইকগাছার রাডুলীর কৃতি সন্তান আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের (পিসি রায়) নামে খুলনা জেলার পাইকগাছায় নির্মাণাধীন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় (কৃষি) ক্যাম্পাসের নামকরণসহ চার দফা দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে স্যার পি. সি. রায় স্মৃতি সংসদ।
শনিবার (১ আগস্ট) সংগঠনের পক্ষ থেকে খুলনা -৬ জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল কালাম আজাদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। এতে দক্ষিণ খুলনাসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট পাইকগাছা উপজেলার রাডুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি ছিলেন রসায়নের মৌলিক গবেষক, সফল আবিষ্কারক, আদর্শ শিক্ষক, শিল্পোদ্যোক্তা, সাহিত্যিক ও মানবহিতৈষী।
১৮৯৫ সালে মারকিউরাস নাইট্রাইটসহ একাধিক রাসায়নিক যৌগ আবিষ্কার করে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯০১ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া নিজ গ্রাম রাডুলীতে সমবায় ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় শুধু বিজ্ঞানীই নন, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও সমাজসংস্কারক। দেশের স্বাধীনতা, শিল্পায়ন, কৃষি, শিক্ষা ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানে তাঁর চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দিতে রাষ্ট্রের উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— পাইকগাছায় নির্মাণাধীন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় (কৃষি) ক্যাম্পাসের নাম “বিজ্ঞানী পি. সি. রায় কৃষি ইনস্টিটিউট” রাখা, রাডুলীতে তাঁর ঐতিহাসিক বসতভিটা সংরক্ষণ ও আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করা, তাঁর জীবনী ও কর্ম পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাঁর বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে উন্নীত ও জাতীয়করণ করা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্ম আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
এদিকে স্মারকলিপি কর্মসূচিতে স্যার পি. সি. রায় স্মৃতি সংসদের সভাপতি ডা. মুহাম্মদ কওসার আলী গাজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর অশোক কুমার ঘোষ, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ এ. কে. এম. গোলাম আযম, সহ-সভাপতি কৃষিবিজ্ঞানী ড. মো. হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল আলম সরদারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া কর্মসূচিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা সাঈদুর রহমান, নায়েবে আমির মাওলানা বুলবুল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালেক, পৌর আমির ডা. আসাদুল হক, অ্যাডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, মাস্টার আনিছুর রহমান, রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাওলানা মোজাফফর হোসেন, হাফেজ নূর, ইয়াসিন শারাফাত, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ও রুহুল কুদ্দুস সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।