শেখ নাদীর শাহ্:
আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) নির্বাচনী এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা জমে উঠেছে। একক প্রার্থী নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও প্রায় অর্ধ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে বাড়তি চাপে রয়েছে বিএনপি। যদিও দীর্ঘ দিন পর পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারবেন-এমন প্রত্যাশায় সাধারণ ভোটাররা এসব প্রার্থীদের কাছাকাছি থেকে ভোটের আগে মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একটাই কথা, দল যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে কাজ করবেন তারা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আসনটিতে এখন পর্যন্ত কাউকে চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না করায় সেখানকার অন্তত ৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী নির্বাচনী এলাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। দলীয় ও জাতীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় অনেকেই আবার ব্যাক্তি প্রচার-প্রচারনায় অংশ নিয়ে নিজের অবস্থানসহ প্রার্থীতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন। অধিকাংশ প্রার্থীরা দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশেষ কাউকে ছাড়াই প্রচার-প্রচারনায় অংশ নিচ্ছেন। আবার অঞ্চল ভিত্তিক তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বগলদাবা করে প্রচার-প্রচারনা ও দলীয় প্রোগ্রামে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে কারো কারো।
যদিও এখন পর্যন্ত আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’র চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদের সাধারণ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মনে করছেন, মোর্চার সুযোগে দীর্ঘ দিন জামায়াতের শক্ত অবস্থানে বিএনপির পক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আনোয়ার আলদীনের বিকল্প নেই। আনোয়ার আলদীন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছা-কয়রায় জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন হিসেবে সকলের পরিচিত আনোয়ার আলদীন। পাইকগাছার হরিঢালী ইউনিয়নের নগর শ্রীরামপুরস্থ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম তার। অত্যন্ত মিশুক, চীর হাস্যোজ্জ্বল স্বভাবের নিরহংকারী জনবান্ধব মানুষ হিসেবে আনোয়ার আলদীন ইতোমধ্যে এলাকায় জনহিতকর নানা কাজের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। কয়রা-পাইকগাছা মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এমন মানষিকতায় নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন বেশ আগে থেকেই। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে নিজেকে নিরলস সপে দিয়েছেন আরোও আগেই। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দখলমুক্ত হয়েছে প্রায় আড়াই দশক ধরে অবৈধ দখলে থাকা সাধারণ মানুষের এক সময়ের জীবিকার প্রাণ ১০ কি:মি: দৈর্ঘ্য নাছিরপুর খাল।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, তিনি কোন নেতা কিংবা প্রভাবশালী হিসেবে নয়, মূলত নাড়ির টানে দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত ও বঞ্চিত জনপদের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছেন। এক কথায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উন্নয়নের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছেন তিনি।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তারেক রহমানও সারা দেশের ন্যায় খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রার) সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সাংসদ নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নের চিত্র পাল্টে যাবে বলে মনে করেন নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ।
আনোয়ার আলদীন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে দলটির থিঙ্কট্যাংক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। জিয়া পরিবার, বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
বিগত ৩১ বছর ধরে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করছেন। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বহু কাজ করেছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের বনানী কার্যালয়ে দলের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারনে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল ।বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের দেড় দশকে তাকে নানাভাবে উৎপীড়ন করা হয়েছে । জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরিক্ষীত অনুসারী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা শুধু দলের ভেতরেই নয়, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও অকল্পনীয় ।
আনোয়ার আলদীনের রাজনৈতিক যাত্রার শুরু সাংবাদিকতার ময়দান থেকেই। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনার সময় থেকেই জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক-এ রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পেশাগত জীবনে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে বিপুলভাবে সুনাম সুখ্যাতি অর্জন করেন। তার লেখা ‘ভেজালের ভিড়ে আসল উধাও’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদনটি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ও ইউনেস্কো পুরস্কার অর্জন করে। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা জীবনে যথেষ্ট সফলতার পরও তিনি নিজ এলাকা দক্ষিণ খুলনার কপিলমুনি-পাইকগাছা অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন ও বহুমুখী সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় হন। রাস্তা-ঘাট,মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা, হেফজখানা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। আনোয়ার আলদীন ইতোমধ্যে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) সংসদীয় আসনে মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তিনি সাবেক স্বৈরাচার সরকারের সমালোচনা করছেন এবং বিএনপির পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তৃণমূল কর্মীদের চাঙ্গা রাখছেন। এই অঞ্চলে তার সাংগঠনিক পরিচিতি যেমন শক্তিশালী, তেমনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের কারণে সাধারণ মানুষও তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। পাইকগাছা ও কয়রার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে তিনি আগামী নির্বাচনের জন্য জনসমর্থনের ভীত গড়ে তুলেছেন। আনোয়ার আলদীনের জন্য একটি বড় সম্পদ হলো তৃণমূল নেতাকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থন।
অনেকেই বলেন, বিএনপিতে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থেকেছেন, দমন-পীড়নের সময় দলীয় পতাকা বহন করেছেন, আনোয়ার আলদীন তাদের অন্যতম। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ মজবুত, ফলে মাঠ পর্যায়ের নানা সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।
সর্বশেষ জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন ও খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনটিতে বিএনপির পক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য হলেও মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল একজন আনোয়ার আলদীনের উপর ভরসা হারাবেনা এমনটাই প্রত্যাশা সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদের সাধারণ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের।