খুলনা প্রতিনিধি::
খুলনার ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নের নরনিয়া এলাকার হতদরিদ্র মুজাহিদ হোসেনের তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়া খাতুনের পিতা, মামা ও চাচা কর্তৃক অমানবিক নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ ও হয়রানীমূলক মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৭আগস্ট) বেলা ১২টায় ডুমুরিয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে, সংবাদ সম্মেলন মৃত্যুপথযাত্রী গুরুতর অসুস্থ মুজাহিদ আসেন বাবা ও মায়ের কোলে উঠে।
সংবাদ সম্মেলনে কান্না জড়িত কন্ঠে মুজাহিদ তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, বলেন আমার দ্বিতীয় স্ত্রী
মারিয়া খাতুন ও শশুর-শাশুড়ি প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিতে চাপ প্রয়োগ করে। তালাক না দেয়ায় ২০২১ সালের ২৪ মে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে উপজেলার গোগ রোস্তমপুর গ্রামে শশুর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোর করে তালাক নেয়া হয়। এমনকি ওই দিন রাতে ডিবি পরিচয়ে প্রাইভেট কারে চোখ বেধেঁ তালা উপজেলার ইসলামকাঠী গ্রামে কথিত মামা শশুর আলতাফ সরদারের বাড়িতে নিয়ে তাকে অমানবিক নির্যাতনেরও অভিযোগ করেন তিনি।
এমনকি ওই সময় তার থেকে জোরপূর্বক নন জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়া তার শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। যে কারণে তিনি এখন পঙ্গুত্ব বরণ করতে চলেছেন। পরবর্তীতে তিনিসহ তারর পিতা মোঃ আশরাফ মোড়লের নামে বিভিন্ন আদালতে মোট ৬ টি হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা মিলে।
সংবাদ সম্মেলনকালে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুস সালাম ভুক্তভোগী মুজাহিদকে প্রশ্ন করেন, তার স্ত্রীর তালাকের পর শশুরের দায়েরকৃত মামলায় আটলিয়া ইউনিয়ন আ’ লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাবিবুর রহমান ও সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান লিটনকে কেন? কোন উদ্দেশ্য আসামী করা হয়েছে।
এমন প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী সাবেক স্বামী মুজাহিদ বলেন, তার জানামতে ওই দু’জনকে তার সাবেক শশুর বাড়ির লোকজন চেনেনেই না। তবে ঠিক কি কারণে তাদের ফাঁসানো হয়েছে সে ব্যাপারে তার জানা নেই। তবে ওই আ’ লীগ নেতা রাজনীতির শিকার ও ওই সাংবাদিককের মান হানির জন্য মামলায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, তার পরিবারকে সর্বশান্ত করা হয়েছে। এমনকি বাড়িতে তল্লাশীর নামে তদন্তের নামে বাড়ি থেকে পাসপোর্টও নিয়ে যায়। যার কারণে আমি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতেও পারছিনা। এ অমানবিক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও হয়রানীমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময়ে গুরুতর অসুস্থ ভুক্তভোগী মুজাহিদের পিতা আশরাফ আলী মোড়ল, মা জুলেখা বেগম, ভাই সাহেদ মোড়ল, প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান ও ইকরামুল হোসেনসহ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।