- মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর ::
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দলের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আগামির সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন নীলফামারী -৪ (সৈয়দপুর -কিশোরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী মির্জা শওকত আকবর রওশন মহানামা।
গত শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সৈয়দপুর শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কস্থ বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে গণমাধ্যমের সামনে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা এস এম মামুনুর রশীদ মামুন। এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী (কাঠাল) মির্জা শওকত আকবর রওশন মহানামা নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একই সময় দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল দিদার দিপু ও উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক জয়নাল আবেদীন।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের বাঙালিপুরস্থ বাসভবনে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীন।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ধানের শীষের সমর্থনে দুই প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় নীলফামারী – ৪ আসনে রাজনৈতিক নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
এস এম মামুনুর রশীদ মামুন ও রওশন মহানামা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানো এবং বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য বলেন, সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. ওবায়দুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম জনি, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীন ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক শওকত হায়াত শাহ।
আনন্দঘন পরিবেশে বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সুমিত কুমার আগরওয়ালা নিক্কি ও হাজী আওরঙ্গজেব, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, যুগ্ম সম্পাদক সামশুল আলম ও জিয়াউল হক জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক এবং এম এ পারভেজ লিটন, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু সাইদ, দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন, জেলা যুবদলের আহবায়ক তারিক আজিজ, সদস্য সচিব পারভেজ আলম গুড্ডু, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রেজওয়ান আকতার পাপ্পু, যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন মেনন, সুজাল হক সাজু, কামরান উদ্দিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আরমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ফরহাদ হোসেন, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা কৃষকদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিজু বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাদেদুজ্জামান দিনার, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক রুপা হোসেন, জেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব জুয়েল বাবু প্রমুখ। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন থেকে সরে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা অবস্থায় করেছেন ছাত্রদলের রাজনীতি। তখন থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে বিএনপির জন্য কাজ করে গেছেন।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন না পেয়ে অভিমানে স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন, চালান নির্বাচনী প্রচারণাও। তবে অভিমান ভুলে তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা ও ভালোবাসা রেখে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন।
তিনি বলেন, দেশের জন্য কার্যকর এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে এসেছি। এখন থেকে আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকারকে বিজয়ী করতে কাজ করে যাবো। এজন্য তিনি তাঁর সকল কর্মী ও সমর্থককে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করারও আহবান জানান।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী রওশন মহানামা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়ে ধানের শীষকে সমর্থন এবং বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এখন থেকে বিএনপির সাথে থেকে দলের সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে দুই প্রার্থীসহ জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দলে যোগ দেওয়ায় বিএনপির সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পক্ষে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার বলেন, তাদের এই যোগদানের ফলে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হলো বিএনপি। তিনি বলেন, যারা বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন তারা দেখে যান, বিএনপিতে নতুন মাত্রা যোগ হলো। এখন কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। আগামি সংসদ নির্বাচনে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জবাসী ধানের শীষকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
এদিকে এস এম মামুনুর রশীদ মামুন ও রওশন মহানামা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানো এবং বিএনপিতে যোগ দিয়েই নিবাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে গোটা নির্বাচনী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের এই পদক্ষেপকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে সচেতন জনগন। তাদের যোগদানকে সাধুবাদ জানিয়ে অনেকেই মনে করছেন এ আসনে বিএনপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোটের হিসাব পাল্টে যেতে পারে।