পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি::
খুলনার পাইকগাছায় একটি চিংড়ী ঘেরের দখল-বেদখলের ঘটনায় পরষ্পর পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। উভয় পক্ষ ঘেরের মালিকানা দাবি করে স্থানীয় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসব সম্মেলন করেন।
এরমধ্যে ১৬ আগস্ট আয়ুব আলী গাজী ও শেখ ফসিয়ার রহমান পৃথক সম্মেলনে তাদের বক্তব্যে বলেন, আয়ুব আলী উপজেলার নোয়ালতলা মৌজায় ১১৯ বিঘা জমির ডিড (রেজিঃ) নিয়ে যার নম্বর ২৯৭/২০। তিনি সেখানে মৎস্য ঘের করে আসছেন। পাশাপাশি ফসিয়ারের দাবি, তার পৈত্রিক ৬ বিঘা জমিতে দীর্ঘ দিন মাছ চাষ করছেন তিনি। আয়ুব আলী সর্বশেষ জমির মালিকদের চলতি ২০২৪ সালেরও হারির টাকা পরিশোধ করে আবাদ অব্যাহত রয়েছে। সম্মেলনে তাদের দুজনেরই বক্তব্য প্রতিপক্ষ শেখ আনারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে বহিরাগত লোকজন নিয়ে তাদের মালিকানাধীন ঘেরের জবরদখল নিয়ে সেখানকার বাসা-বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এতে ফসিয়ার রহমানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। অন্যদিকে গণঘেরের আয়ুব আরী পক্ষের মালিকদের ১৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে শনিবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১ টায় একই সংগঠনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আগের দিনের অভিযুক্ত শেখ আনারুল ইসলাম বলেন, গত ৫ আগষ্ট সকালে কপিলমুনির বারুইডাঙ্গা গ্রামের আয়ুব আলী গাজীর নের্তৃত্বে শতাধিক লোক তার মাছের ঘের জবরদখল করতে যায়।
এসময় তারা তার ঘেরের পাকা-কাঁচা ঘরের ব্যাপক ভাংচুর ও মাছ, ছাগল, মাছের খাদ্য, আসবাবপত্রসহ নগদ প্রায় আড়াই কোটি টাকা লুটপাট করে। এসময় দখলদাররা ঘেরের কর্মচারীদের বেদম মারপিট করে বলে অভিযোগ তার। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান শেখ আনারুল ইসলাম।
এসময় তিনি দখলদার আয়ুব আলী সম্পর্কে অভিযোগে আরো বলেন, আয়ুব আলী ২০২০ সালে উক্ত ঘেরের মধ্য থেকে ৭৪ বিঘা জমি মালিক পক্ষের কাছ থেকে ইজারামুলে রেজিষ্ট্রেশন করেন। যা তিনি পরবর্তীতে তার নিকট সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা লাভসহ ১১ লাখ ৯ হাজার টাকা গ্রহন করে ঐ রেজিস্ট্রি ডিড হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।