- নিজস্ব প্রতিনিধি, (পাইকগাছা) খুলনা॥
খুলনার পাইকগাছায় গত কয়েক দিনে আইনজীবি সমিতির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বিবিন্ন জনের কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবিসহ প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দু’ মামলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে বাগেরহাটের রামপাল থানার শরাপপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোল্লা ইয়ামিন (৩০), তার মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) কে আটক করা হয়েছে।
থানা পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তারা পাইকগাছা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর যথাক্রমে ২৭ ও ২৮।
এছাড়া গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয়, ফোনে নিজেকে ‘সর্বহারা পার্টির’ নেতা আসলাম শিকদার পরিচয়ে তার ছেলেদের জন্য অর্থ দাবি করে তাকে যেকোন অবস্থাান থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে হয় অর্থ নয়তো রক্ত নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বিভিন্নভাবে মোল্লা ইয়ামিনের নাম উঠে আসে। তিনি কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ সহ বিভিন্ন নামে এলাকায় পরিচিত বলে জানানো হয়।
মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়।
পাইকগাছা থানার ওসি শেখ আব্দুল আউয়াল কবির বলেন, মোল্লা ইয়ামিন তার মা ও স্ত্রীর নামে রেজিষ্ট্রেশনকৃত মোবাইল নাম্বার থেকে চাঁদা দাবি করতো বলে সে স্বীকার করেছে।
জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ফোনে চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ সিআর আরো ৩টা মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।