- শেখ নাদীর শাহ্::
সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আলোচিত মিনহাজ নদীর মুখে পলি ভরাটে নব্যতা হ্রাস পাওয়ায় সুষ্ঠু পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে, এতে পাইকগাছা ও কয়রা দু’উপজেলার অন্তত চার ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা জমিতে আমন আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম মিনহাজ নদীর মুখে পলি ভরাট হওয়ায় অতিবৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতায় বন্ধ রয়েছে এ অঞ্চলের আমন আবাদ। কৃষকেরা এখনো বীজতলা পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি। বহু মাছের ঘের তলিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা নদীর ইজারা বাতিল করে নদী খনন ও পানি শাষন বন্ধের দাবিতে শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে নদীর পাড়ে খড়িয়া গোড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।
জানা গেছে, পাইকগাছার ২৫১.২৫ একর আয়তনের মিনহাজ নদী (বদ্ধ) জলাশয়টি উপজেলার লস্কর, গড়ইখালী, চাঁদখালী এবং পার্শ্ববর্তী কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের কয়েকটি বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। এ অঞ্চলের পানি মিনহাজ হয়ে শিবসা নিষ্কাশিত হয়। তবে সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসক স্থানীয় সুন্দরবন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ৫ বছর মেয়াদী ১৪৩১ থেকে ১৪৩৬ সাল পর্যন্ত ইজারা প্রদান করেছেন। যার ইজারা মূল প্রতি বছর ৩৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া ভ্যাট-ট্যাক্স রয়েছে আরো প্রায় ৯ লাখ টাকা। নদীর ইজারা প্রদানের পর থেকে পানি শাষন করে মাছ চাষ করায় পানির প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয়ে নদীর মুখে পলি ভরাট হয়ে নব্যতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এতে বহু মাছের ঘের তলিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষকরা আমন চাষের বীজতলা পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি। ফলে চলতি বছর আমনের আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভেসে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। জলাবদ্ধতার জন্য কৃষকরা আমন ধানের বিজতলা তৈরি করতে পারছে না।

শনিবার সকালে জিএম শামছুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়ত নেতা মাওঃ আমিনুল ইসলাম, মোজাফফর হোসেন, আসমত শিকারী, মাওঃ আবুল কালাম, সজল সানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা নদীর ইজারা বাতিলপূর্বক নদী খননের মাধ্যমে পানির সুষ্ঠু প্রবাহ ফিরিয়ে জনপদের সাধারন মানুষের জীবন-জীবিকার পথ সচল করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ইজারা গ্রহিতা সুন্দরবন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা সরকারকে ইজারা মূল্য পরিশোধ করে নীতিমালা অনুসরণ করে জলাশয়ে মাছ চাষ করছেন।
এসময় তিনি আরও দাবী করেন, ৪ টি ইউনিয়নের ৮ টি স্লুইজ গেটের ৭ টি বন্ধ করে রাখায় পানি সরবরাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। একটি মাত্র গেট দিয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মিনহাজ নদীর মুখ ভরাট হওয়ায় পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ইজারা বাতিল করলে তাদের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।