নিজস্ব প্রতিবেদক::
খুলনার পাইকগাছা হাসপাতালের বহুলালোচি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০ জুলাই বিকেলে পাইকগাছা এসডি পরিবহনের ম্যানেজার শাহিনুর রহমান আসাদুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক রোগীকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে ভর্তি করাতে যান। এসময় জরুরী বিভাগের কক্ষে রোগীকে চেয়ারে বসানোকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ আল মামুন রোগী ও তার স্বজনদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচারণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি রোগীর ৪ স্বজনকে কলম দিয়ে খুচিয়ে রক্তাক্ত যখম করেন।
এ ঘটনায় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতাল এলাকায় শ্রমিকরা জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এব্যাপারে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকসহ অনলাইনে ফলাও করে খবর প্রকাশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. সুজন কুমার সরকার, ডা. সঞ্জয় কুমার মন্ডল ও আক্তার হোসেন ঐদিনই ঘটনার ব্যাপারে আহত শ্রমিকের কাছ থেকে লিখিত জবানবন্দি নেন।
এরপর সর্বশেষ ২৪ জুলাই সোমবার সকালে পাইকগাছা হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা অভিযোগের বিষয়ে শুনানি করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ডা. সঞ্জয় কুমার মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিতিশ চন্দ্র গোলদার অফিসিয়াল কাজে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মৌখিকভাবে সব ধরনের দাপ্তরিক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের লিখিত বয়ানের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি ঘটনায় তাদের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও অভিযুক্ত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার উপজেলার আগড়ঘাটা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে অনুরুপ তাদের ওপর হামলা করে আহত করেন। এরপর উপরন্তু চারজন সাংবাদিকসহ পাঁচজনের নামে একটি মামলা করেন।
সর্বশেষ শ্রমিক নেতারা সাংবাদিকদের জানান, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অচিরেই তারা ২৬ রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধসহ কঠোর কর্মসূচী পালন করবে।