গত কয়েক দিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন ও দৈনিক পত্রিকায় পাইকগাাপজেলার নাছিরপুর গ্রামের রঞ্জন সাধুর ছেলে গৌরাঙ্গ সাধুর বরাদ দিয়ে কপিলমুনির মহাপ্রভূ বস্ত্রালয়ের স্বত্ত্বাকিারী অসীম সাধু ও তার ছেলে বিশ্বজিৎ সাধুকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন অসীম সাধুর মেয়ে ও গৌরাঙ্গ সাধুর স্ত্রী রুপা সাধু।
অসীম সাধু ও তার ছেলে বিশ্বজিৎ সাধু কর্তৃক গৌরাঙ্গ সাধুর বাবা রঞ্জন সাধুর কাছ থেকে প্রতারণামূলক জমি লিখে নিয়েছে মর্ম্মে প্রকাশিত খবরসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদে রুপা সাধু বলেন, ‘আমি গত ২০০৪ সালে স্থানীয় কপিলমুনি মেহেরুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালীণ উক্ত গৌরাঙ্গ সাধুর সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে সে তাকে প্রেমে উদ্বুদ্ধ ও নানা কথার জালে জড়িয়ে তার বাবা-মায়ের অমতে ফুসলিয়ে বিয়ে করে। এরপর দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই আমি মা’ হওয়ার পর থেকে আমার উপর শুরু হয় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকের নির্মম শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন।’ প্রায়ই তারা আমাকে পিত্রালয় থেকে টাকা আনার জন্য নানাবিধ চাপ প্রয়োগ শুরু করে। আমি বিষয়টি বাবার বাড়িতে গিয়ে বাবা-ভাইকে জানালে তারা আমার ও আমার সন্তান সংসারের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযুহাতে প্রায় ৩৫/৪০ লক্ষ টাকা দেয়। যার মধ্যে গৌরাঙ্গর ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাড়ি নির্মাণের সমুদয় খরচও ছিল।
একপর্যায়ে গৌরাঙ্গর ব্যবসায়িক প্রয়োজন, ঋণ পরিশোধসহ নানা প্রয়োজনে নিজ বাড়ি বিক্রির জন্য খরিদ্দার দেখতে থাকে। বিষয়টি আমি আমার বাবা-ভাইকে জানালে তারা আমার ও আমার ছেলে-মেয়েদের সুখের কথা চিন্তা করে শ্বশুর রঞ্জন সাধুর নিকট থেকে ছোট ছেলে গৌরাঙ্গর প্রাপ্য .০৫৫৪ একর জমি সর্বোচ্চ দামে আমার মা গীতা রানীর নামে রেজিস্ট্রি কোবলামূলে খরিদ করেন।
এর কিছুদিন পর গৌরাঙ্গ আমার নামীয় উক্ত জমি নিজ নামে ফেরৎ অথবা আরো টাকার জন্য ফের তাকে শারীরিক-মানষিক নির্যাতন করে সন্তানসহ তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বিষয়টি তার বাবা-ভাইকে জানালে জমি ফেরৎ দিলে গৌরাঙ্গ ফের ঐ জমি অন্যত্র বিক্রি করবে এমন আশংকায় তার মা তা ফেরৎ দিতে রাজী না হওয়ার বিষয়টি গৌরাঙ্গকে জানালে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে জমি ফেরতের পাশাপাশি আরো ২০ লক্ষ টাকা না নিয়ে বাড়ি ফিরতে নিষেধ করে তাকে বিষ খেয়ে মরতে বলে। অন্যথায় সে তার বাবা অসীম সাধু ও ভাই বিশ্বজিৎ সাধুকে জীবননাশের হুমকি দেয়। এরপর আমি স্বামীর বাড়িতে গেলে আমার প্রতি শারীরিক-মানষিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে আমাকে আত্নহত্যায় নানাভাবে প্রলুব্ধ করে।
একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার বাবা-ভাই ও সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে গত ২৮/৭/২৩ তারিখে হারপিক পান করি। খবর পেয়ে আমার বাবা-ভাই আমাকে উদ্ধার করে খুলনা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখান থেকে আমি কোন রকম সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসি। এখনো আমার অবস্থা আশংকাজনক।
বাড়ি ফিরে আসার পর সামাজিক যোযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন ও দৈনিকে প্রকাশিত খবর সম্পর্কে অবগত হই। প্রকাশিত খবরগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিতিতহীন। প্রকৃতপক্ষে যৌতুকের জন্য আমার উপর চালানো তার অমানুষিক নির্যাতন ও সর্বশেষ আমার আতœহত্যা প্ররোচনা ঘটনাসমূহকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সংবাদকর্মীসহ বিভিন্নজনকে দিয়ে ঐ মনগড়া বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার করছে।
আমি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদের পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় প্রাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বিনীত নিবেদক-
রুপা সাধু
পিতা-অসীম সাধু
কপিলমুনি, পাইকগাছা, খুলনা।