নিজস্ব প্রতিবেদক::
ফোন সেক্স ইস্যুতে সাময়িক বহিষ্কার হওয়া খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসের সাময়িক বরখস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১১ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত এক পত্রে বরখস্তাদেশ প্রত্যাহারের বষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে এমন খবরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কাজল কান্তি বিশ্বাস অনুসারীরা উল্লাস প্রকাশ করলেও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২০ জুন মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান স্বাক্ষরিত এক পত্রে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। যার স্মারক নং-৪৬. ০০. ৪৭০০. ০১৭. ২৭. ০০২. ২০-৫৭৬। পত্রে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাইকগাছা, খুলনার প্রতিবেদন ও অফিসার ইনচার্জ, পাইকগাছা থানার প্রেরিত বার্তায় দেখা যায় যে, কে বা কারা উক্ত চেয়ারম্যানের একটি ভিডিও কল বিচ্ছিন্নভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে এ ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত হওয়া নৈতিকতা ও উক্ত পদের জন্য অবমাননাকর প্রতীয়মান হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (খ) (ঘ) ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক খুলনা, ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারীশ করেন।
একই সাথে ২০ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার পত্রের বরাদ জেলা প্রশাসক ঐদিন ৪৬০০. ৪৭০০. ০১৭. ২৭. ০০২. ২০-৫৭৭ নং স্মারকে এবিষয়ে কজল কান্তি বিশ্বাসকে পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য পত্র প্রেরণ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে কাজল কান্তি বিশ্বাস জেলা প্রশাসক খুলনা বরাবর গত ২ জুলাই কারণ দর্শানোর জবাবের একটি কপি ফের সামাজিক যোযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ২০১১ থেকে ১৬ পর্যন্ত ৫ বছর সুনামের সাথে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ফের ২০২১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন বলে উল্লেখ করে তার কৃতকর্ম ঢাকতে মেডিকেল সাইন্সের উদ্বৃতি দেন। যা নিয়ে নিজ ইউনিয়ন লতার পাশাপাশি উপজেলাময় নতুন সমালোচনার জন্ম দেয়। জবাবের একাংশে তিনি ৭৫ শতকরা পুরুষ ও ৪২ শতকরা নারীকে হস্তমৈথুনকারী হিসেবে উল্লেখপূর্বক যা, মানব জীবনযাপন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ বিশেষ দাবি করেন। এমনকি এটা কোন বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যে পড়েনা এবং প্রাকৃতিক কর্মকান্ডের অন্তর্ভূক্ত বলে উল্লেখপূর্বক তার কৃতকর্মকান্ডটি বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪ ২৯৪ ধারায় অনৈতিক অশ্লীলতার বর্ণনায় পড়েনা। এমনকি দন্ডবিধির অন্য কোন ধারায় অনৈতিক অশ্ললিতার কোন বর্ণনা নেই। জবাবে আরো বলা হয়, তিনি তার ঘরের মধ্যে বসে একান্ত পরিবেশে কর্মটি করেন। যা কতিপয় নষ্ট চরিত্রের মানুষ ও তার শত্রুরা গোপনে ছবি তুলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেড়ে অপরাধ করেছে দাবি করেন। ফলে তার সম্মান সুখ্যাতি নষ্ট হয়েছে। এহেন কাজের জন্য তিনি দু:খ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে আগামীতে তিনি এমন কর্মকান্ড করবেননা বলে প্রতিশ্রুতিপূর্বক তার উপর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
সুত্র জানায়, সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২৩’ খুলনা জেলা প্রশাসকের ৫৬৬ নং স্মারকের মতামতপত্রে বলা হয়, এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তাই তিনি প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী তিনি ইচ্ছাকৃত কোন ফৌজদারী অপরাধ করেননি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান স্বাক্ষরিত ৪৬. ০০. ৪৭০০. ০১৭. ২৭. ০০২. ২০-৫৭৬ স্মারকে ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাময়িক বহিষ্কারাদেশটি প্রত্যাহার করা হয়।