বাড়ছে পরিবেশবান্ধব বাঁশের তৈরী পণ্যের ব্যবহার, কয়রার সংগ্রামী নারী মিনতী এখন সফল উদ্যোক্তা!
প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
২৩
বার পঠিত
রিয়াছাদ আলী,দীপ্ত নিউজ:
সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার কয়রার অদম্য ঋষি সম্প্রদায়ের এক সংগ্রামী নারী মিনতী এখন সফল উদ্যোক্তা। দারিদ্র্যতায় নানা সংকটে সংসার জীবনের শুরু করলেও দৃঢ় মনোবল আর কঠোর পরিশ্রমে তিনি যেন বদলে নিয়েছেন নিজের ভাগ্য। বর্তমানে এ নারী উদ্যোক্তা বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্য। যেমন ঝুড়ি, ডালা, হাতপাখা, ফুলদানি, মাছ ধরার চাঁই, চাটাই,শোপিসসহ ঘর সাজসজ্জার হরেকরকমের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তাই যেন প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার সাথে সাথে নিয়মিত বেড়েই চলেছে বাঁশের তৈরী বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা।
গ্রাম বাংলার প্রচীন এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কয়রা উপজেলার মজারাপুর ইউনিয়নের হায়াতখালী বাজারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবপল্লব প্রকল্পের (প্রাক্টিক্যাল এ্যকশন) সহযোগীতায় বাঁশ দিয়ে তৈরী বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব জিনিসপত্র তৈরী করে বিক্রি করছেন মিনতি দাসী ও স্বামী বিমল কৃষ্ণ দাস।
সরেজমিনে গেলে উদ্যোক্তা মিনতি দাসী দীপ্ত নিউজের এ প্রতিনিধিকে সমাজে চলমান বৈষম্যের কথা জানিয়ে বলেন, তিনি ঋষি সম্প্রদায়ের, আর সংগত কারণে মানুষ তাদের অন্যদের ন্যাশ যেকোন স্থানে কাজে নেয়না। আর এলাকায় তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কর্মের সুব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে স্বামীর সাথে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন তারা । প্রথমে তার স্বামী সংসারের অভাব ঘুচাতে দিন মুজুরির পাশাপাশি বাঁশ দিয়ে নিজেরা কিছু জিনিসপত্র তৈরি করে পায়ে হেঁটে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করতেন। আকষ্কিক একদিন তাদের উক্ত কাজের খবরে প্রাক্টিক্যাল এ্যাকশনের কর্মীরা তাদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে কাজ দেখে হস্থশিল্প উদ্যোক্তা হিসাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
মিনতি আরও বলেন শুরুতে অনেক কষ্ট ছিল, কিন্তু হাল ছাড়েননি। এখন নিজেদের আয়ে সুন্দরভাবে চলছে তাদের সংসার। তাছাড়া পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় বাঁশের তৈরী এ সকল পণ্যের চাহিদাও দিন দিন বেড়েই চলেছে।
প্রাক্টিক্যাল এ্যাকশনের কমিউনিটি সুপারভাইজার খাদিজা সুলতানা( সাথী) জানান, ঋষি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বিমল কৃষ্ণ দাস ও তার স্ত্রী মিনতি দাসী দুজনেই বাঁশে দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে বেশ দক্ষ। লোকমুখে খবর পেয়ে আমার প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করণে সহযোগীতা করছি। এভাবে সমাজে পিছিয়ে পড়া অনাগ্রসর একটা পরিবারকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং বিলুপ্ত প্রায় পেশা কে সামনে রেখে নবপল্লব প্রকল্পের মাধ্যমে মিনতি দাসীর পরিবার আজ নতুনভাবে আর্থিক সংকট দূর করার স্বপ্ন বুনছে।
স্থানীয়দের ধারণা, পরিবেশবান্ধব বাঁশের তৈরী বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন কমবে প্লাস্টিক দূষণ। অপরদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিও হবে আরও বেশি শক্তিশালী।