- শার্শা (যশোর) থেকে আব্দুল মান্নান ::
যশোরের বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর- রঘুনাথপুর মাঠে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ১০ থেকে ১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করার চেষ্টা করলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ দুই দিন ও দুই রাত তীব্র রোদ ও খাদ্য-পানির সংকটে পড়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আটকা পড়া এই মানুষগুলো।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ তাঁদের ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে অবৈধ পথে সীমানে—র নো-ম্যানস ল্যান্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, বিজিবি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি তাঁরা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশি নাগরিক হন, তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সরকারিভাবে তাঁদের গ্রহণ করা হবে।
কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে পুশ-ব্যাক করার সুযোগ নেই। ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে মঙ্গলবার বেলা ১২টার সময় যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আলম খান ঘটনাস্থল
পরিদর্শন করেছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে, গত ১ জুন বেলা ১২টার সময় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের রিজিয়ন কমান্ডার মাহমুদ হাসান জানিয়েছিলেন, বিএসএফের কাছে এ বিষয়ে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে সেই আলোচনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
এদিকে, রঘুনাথপুর- সাদিপুর সীমান্তের বোম্বে তলা এলাকায় স্থানীয় শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। গত রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিএসএফ তাঁদের অংশের কাঁটাতারের গেট খুলে এই মানুষগুলোকে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। তখন থেকেই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি তৎপরতার ফলে বাঙ্কার নির্মাণ করে সর্বচ্চ শর্তকতা অবস্থানে রয়েছে।