- সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী পরিবারের বিশ্বস্ত সৈনিক জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কামারপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত ৩.২০ মিনিটে ঢাকার আদ্ – দ্বিন মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহে…. রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল (৫১) বছর। তিনি দীর্ঘদিন থেকে কিডনি,ডায়াবেটিস ও ফুসফুসজনিত রোগে ভুগছিলেন।
মৃত্যুকালে স্ত্রী, ২ শিশুকন্যা ও পুত্র,৬ ভাই,২ বোন, অসংখ্য আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের জানাযার নামাজ গতকাল বুধবার বাদ নামাজে মাগরিব সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কুজিপুকুর নাজিমউদ্দীন পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মরহুমের জানাযার নামাজ ও দাফনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, আত্মীয় স্বজনসহ এলাকাবাসী অংশ নেন।
এরআগে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কফিনে বহন করা মরহুমের মরদেহ তাঁর বাড়ির সামনে রাখা হয়। বিএনপিসহ দলের সকলস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এদিকে মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীন, বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এ্যাড. ওবায়দুর রহমান, সুমিত কুমার আগরওয়ালা নিক্কি, ও হাজী আওরঙ্গজেব, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রামাণিক উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী রশিদুল হক সরকার, সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবলু, জেলা যুবদলের আহবায়ক তারিক আজিজ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রেজওয়ান আকতার পাপ্পু, সদস্য সচিব পারভেজ আলম , যুগ্মআহবায়ক কামরান উদ্দিন, জাকির হোসেন মেনন, সুজাল হক সাজু,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আরমান, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম রাব্বি, সাবেক ছাত্রনেতা নাঈম সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ফরহাদ হোসেন, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিজু বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাদেদুজ্জামান দিনার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলফ্রেড টিটো চৌধুরী, কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লানচু হাসান চৌধুরী, বাঙ্গালিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন, অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলন, তোফাজ্জল হোসেন লুতু,কাজী জাহিদ, নজির হোসেন নজু প্রমুখ।
উল্লেখ্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতি করা ওই নেতা বেশ কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার আদ্ দ্বিন মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
বুধবার রাত ৩.২০ মিনিটে মারা যান। তিনি ছিলেন ওই এলাকার মরহুম নাজিম উদ্দীনের পুত্র।