নিজস্ব প্রতিবেদক::
পাইকগাছার কপিলমুনিতে আম গাছের ডাল কর্তনের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশকে জড়িয়ে মিথ্যাচারের পর এবার আদালতে দায়ের করা মামলায় সুর পাল্টেছেন বিধান বিশ্বাস। ১২ সেপ্টেম্বর তার জমির সীমাণায় লাগানো ৩টি আম গাছের ডাল কর্তনের ঘটনায় কপিলমুনির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নির্মাণ বিপনীর স্বত্ত্বাধিকারী বিপ্লব সাধুকে অভিযুক্ত করে স্থানীয় পুলিশ দিয়ে তাকে হয়রাণি এমনকি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে ১৭সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন বিধান।
অথচ মাত্র দু’দিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর একই দিনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে পাইকগাছা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলায় রীতিমত সুর পাল্টেছেন বিধান কুমার বিশ্বাস। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৮৫ সালের ১৮ মার্চ তার পিতা অজিত কুমার বিশ্বাস ১৮০০ নং কোবলায় নাছিরপুর মৌজার এসএ ৩১৩/১ খতিযানের মধ্য থেকে ০.০৭৫০ একর ও একই দিন তার কাকা মহারাজ বিশ্বাস একই তপশীলভুক্ত ০.০৭৫০ একর জমি খরিদ করেন। যা সর্বশেষ ডিপি ৫২৩ খতিয়ানে ৫২৮ দাগে নিজ নিজ নামে রেকর্ড সম্পাদন হয়। ঘটনার দিন গত ১২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল আনুমানিক ১০ দিকে তাদের পার্শ্ববর্তী জমির মালিক বিপ্লব সাধু অজ্ঞাত পরিচয় ৭/৮ জন লোকজন নিয়ে তাদের স্বত্ত্ব দখলীয় জমিতে লাগানো ৩টি আমগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করেন। খবর পেয়ে বিধান বিশ্বাস ঘটনাস্থলে তাকে বাঁধা প্রদান করলে বিপ্লব তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও তার কাছে থাকা ৮০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। এসময় তার আত্নচিৎকারে বিধানের স্ত্রী রত্না বিশ্বাস এগিয়ে আসলে তাকেও শারীরিক লাঞ্ছিত ও বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানী করে। এমনকি তার গলায় থাকা ১ভরি ওজনের সোনার চেইন ছিড়ে নেয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার গাছপালা কেটে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন ও কর্তনকৃত গাছ বাড়িতে নিয়ে যায় যার আনুমানিক মূল্য আরো এক লক্ষ টাকা। এসময় পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা ছুটে আসলে খুন-গুমের হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এই সেই আলোচিত আমগাছের ডাল যা, কর্তনে বিধান বিশ্বাস গং দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মামলা করেছেন-নিজস্ব ছবি
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ১২ সেপ্টেম্বর গাছ কর্তনের অভিযোগ তুলে ১৪ সেপ্টেম্বর বিধান বিশ্বাসকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রাণি ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহাজুল ইসলাম কর্তৃক ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে ১৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করা হয়। একই ঘটনায় ভিন্ন বিবরণে পর দিন ১৮ সেপ্টেম্বর পাইকগাছা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিপ্লব সাধুর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৭/৮ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন ১২ সেপ্টেম্বর মূলত ক’টি ঘটনা ঘটেছিল? একটি নাকি একাধিক? একটি ঘটনা ঘটলে সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ আর এক দিন পরে আদালতে দায়ের করা মামলায় ভিন্ন বিরনের অভিযোগের কারণ কি? সত্যিই যদি আম গাছের ডাল কর্তনের ঘটনায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হতো তাহলে মামলার আগের দিন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বর্ণনায় কেন তা উল্লেখ করা হলোনা?
মূলত গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশিষ্ট স্টীল ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী বিপ্লব সাধু। মূল ঘটনাকে আঁড়াল করতে হয়রাণির উদ্দেশ্যেই একের পর এক তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে বিপ্লব সাধুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে।
মূলত নাছিরপুর মৌজায় বিপ্লব সাধু .৪৮ একর জমি খরিদ করে সেখানে সাধু স্টীল কর্পোরেশন’র নামে প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তার প্রকল্পভূক্ত খরিদা জমির সীমানায় আগে থেকেই স্থানীয় বিধান বিশ্বাসদের খরিদা সম্পত্তির সাথে অতিরিক্ত ০.০০১ একর জমি জবরদখল করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি উভয় পক্ষের জমির আইল সীমানা নির্দ্ধারনে স্থানীয় আমিনদ্বারা মাপ-জোখ করে বিপ্লব সাধুর খরিদা .৪৮ একর জমির স্থলে .৪৭ একর জমি অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এমন অবস্থায় যার যার জমি বুঝে দিতে উভয় মালিকদের সমন্বয়ে আমিনদের সম্পৃক্ততায় একটি রইদাদনামা সম্পন্ন হয়। যেখানে সংশ্লিষ্ট মালিকদের সকলের স্বাক্ষর দেওয়া হয়। সেমতে বিপ্লবের খরিদা .০০১ একর জমিতে লাগানো বিধানের কয়েকটি আম গাছের চারা কেটে নেওয়ার কথা বললে তিনি বিভিন্ন সময় নানা টালবাহানা করতে থাকেন।
একপর্যায়ে ঐ গাছের ডাল তার প্রকল্প সীমানায় গিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তিনি গত ১২ সেপ্টম্বর তা বিধান বিশ্বাসকে বলে নিজ শ্রমিকদের দিয়ে একটি গাছের ডাল কর্তন করেন। আর এ নিয়েই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন মহল বিশেষ। আর তুচ্ছ ঘটনাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত জমি দখলের বিষয়টিকে আঁড়াল করতে একের পর এক মিথ্যাচার করা হচ্ছে বিপ্লবকে নিয়ে। এমনটাই দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট পরিবারের।
সর্বশেষ একই ঘটনায় পৃথক বিবরণে মিথ্যাচার, পুলিশকে জড়িয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে হেনস্থা ও জমির দখলসহ অভিযোগের বিষয়গুলির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে বিপ্লব সাধুসহ ব্যবসায়ী মহল প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।