নিজস্ব প্রতিনিধিঃঃ
পরীক্ষার আগেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এমন অভিযোগ নিয়োগ পরীক্ষার্থীসহ অনেকের। এমনকি পরীক্ষা বন্ধে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসক ইউএনও পর্যন্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বন্ধ হয়নি পরীক্ষা। পাইকগাছার চাঁদখালীর কপোতাক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনটি পদে কর্মচারী নিয়োগে ৫ম বার পুণ: বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় নিয়োগ ভেন্যু থেকে ফলাফল ঘোষণা না দিয়ে উত্তরপত্র নিয়ে যাওয়া হয় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে।
এমন প্রশ্নবিদ্ধ ও তঞ্চকতায় ঠাসা অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের একজন জোবায়ের হোসেনের।
আসলে কি পরীক্ষার আগেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে সেখানে? আর নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম উল্লেখ করে পরীক্ষার আগেই বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগপত্র প্রেরণ করা হয়? কিংবা ৫ম বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির হেতু কি আর পরীক্ষার পর ফলাফল না জানিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার উত্তরপত্র নিয়ে নিজ কার্যালয়ে চলে যাওয়ার হেতুটাইবা কি? এমন নানা প্রশ্নের সামনে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাব উত্তর যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে নিয়োগ পরীক্ষা।
অভিযোগে জানানো হয়, উপজেলার চাঁদখালীর কপোতাক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক, আয়া ও নিরাপত্তা কর্মী পদে বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক বুধবার (১২ জুন) নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এতে তিনটি পদে মোট ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহন করে। এসময লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ করা হবে মর্ম্মে সকলকে একটি কক্ষে থাকতে বলা হলে সবাই থেকে যান। কিন্তু এর মধ্যে বেলা ৪ টার দিকে ফল প্রকাশ না করে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান আলী শেখ উত্তরপত্রসহ ফলাফল শীট নিয়ে নিজ কার্যালয়ে চলে যান।
এসময় পরীক্ষার্থীদের অনেকে তার কাছে ফলাফল জানতে চাইলে জানতে চাইলে তিনি তার অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।
সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। চলতি কমিটির বয়স অন্তত ১০ বছর। সভাপতি আব্দুস সালাম খানের মেয়াদ শেষ হবে ২৬ জুন। তার মেয়াদে নিয়োগ সম্পন্ন করতেই মূলত অভিযোগ স্বত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে ৫ম বার পূণ:বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারেও রয়েছে নানা রহস্য। অনেকে বলছেন, যথাসময়ে কাংখিত প্রার্থী বা দরদাম ঠিক না হওয়ায় একের পর এক সময় ক্ষেপন করা হয়েছে। সর্বশেষ কর্তৃপক্ষ কাংখিত প্রার্থী পাওয়ায় তাদেরকে নিয়োগ দিতে বোর্ড সদস্যদের ম্যানেজ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কপোতাক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার রায় এদিন বলেন, রেজাল্টসীট শিক্ষা অফিসার নিয়ে গেছেন। কারা নিয়োগ পেয়েছে তা তিনি বলতে পারছেনা।
সভাপতি আব্দুস সালাম খান বলেন, এবিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেননা। বিষয়টি শিক্ষা অফিসার বলতে পারবেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাহাজাহান আলী শেখ নিয়োগ প্রাপ্ত তিন জনের নাম জানিয়ে বলেন, স্কুলের নোটিশ বোর্ডে ঐদিন (বুধবার) বিকেল ৫ টায় তিনি নিজে টানিয়ে এসেছেন।
এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই এরপরও নিরপেক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এদিকে এঘটনায় বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুস সালাম খাঁন বলেন, বহুল প্রচলিত দ’ুটি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে ৫ বার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশপূর্বক গত ১২ জুন নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজির প্রতিনিধি, ডিসির প্রতিনিধি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ অন্তত ১৫/১৬ জন সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে তড়িঘড়ি কিংবা কোন প্রকার তঞ্চকতার প্রশ্নই ওঠেনা।
অফিস সহায়ক পদে কৃষ্ণ নগর গ্রামের হরষিত বাছাড়, নিরাপত্তা কর্মী পদে একই গ্রামের ঋষিকেশ মন্ডল এবং আয়া পদে শ্রীকণ্ঠপুর গ্রামের সোনিয়া খাতুন সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। এখানে কোন প্রকার অনিয়মের সুযোগ ছিলনা।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা ছিলেন, যথাক্রমে ডিজি প্রতিনিধি পাইকগাছা সরকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন, ডিসির প্রতিনিধি মোঃ ঈমান উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাজান আলী শেখ, সভাপতি আব্দুস সালাম খাঁন ও প্রধান শিক্ষক সুকুমার রায়।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহাজান আলী শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বসে ৫ জনের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত পূর্বক স্বচ্ছ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উক্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তদের নিয়োগ বোর্ডে নাম রাখা হয়েছে।
ডিজির প্রতিনিধি বলেন, কপোতাক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রশ্নপত্র তৈরী ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক সুকুমার রায় বলেন, সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মূলত অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে পরীক্ষার আগে যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে মর্ম্মে চিহ্নিতপূর্বক বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, কাকতালীয়ভাবে সুষ্ঠু পরীক্ষায় তারাই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে কি নিয়োগ প্রাপ্তরা আগে থেকেই জানতেন যে, ঠিক কি ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে? নাকি পরীক্ষার দিন সমন্বিত প্রশ্নপত্র প্রস্তুত প্রক্রিয়া লোক দেখানো ছিল? এমন প্রশ্ন পরীক্ষায় নিয়োবঞ্চিতদের পাশাপাশি সাধারণ জনমনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে।