1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন

পাইকগাছায় হদিস নেই ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের দেওয়া কম্বাইন হারভেস্টারের

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪
  • ১১৮ বার পঠিত
paikgacha-harvester-9619
পাইকগাছা ইউএনও মাহেরা নাজনীন উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের মধ্যে সরকারের ভর্তুকিমূল্যের কম্বাইন হারভেস্টার বিতরন করছেন।

শেখ দীন মাহমুদ::

খুলনার পাইকগাছায় সরকারের ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরনকৃত কম্বাইন হারভেস্টার গুলো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। কৃষি অফিস বলছে, এর উপকারভোগীরা যন্ত্রগুলো এলাকার বাইরে পাঠিয়েছেন, কর্তন মৌসুমে ফের এলাকায় নেয়া হবে। এছাড়া হারভেস্টারগুলো এলাকায় নিতে এর উপকারভোগীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি এ কৃষি কর্মকর্তার। যদিও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা, উপজেলার সোলাদানা, গড়–ইখালী, কপিলমুনি ও হরিঢালী ইউনিয়নের ৭ জন কৃষকের নামে বরাদ্দের হারভেস্টারগুলো গোপনে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে মর্ম্মে দাবি একাধিক সূত্রের। যদিও স্থানীয় কৃষি অফিস তা মানতে রাজী না হলেও সেগুলোর অবস্থান সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই তাদের কাছে।

পাইকগাছা কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী, ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার (যন্ত্র) পাওয়া কৃষকরা হলেন, উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের নারকেলপোতা গ্রামের কামরুল ইসলাম, গড়ইখালী ইউনিয়নের মুজাহিদুল ইসলাম, আমিরপুর গ্রামের উত্তম মন্ডল, কানাখালী গ্রামের প্রদীপ সানা, কপিলমুনি ইউনিয়নের কাজিমুছা গ্রামের মিজানুর খাঁ, হরিঢালী ইউনিয়নের ইসমাইল হোসেন ও একই ইউনিয়নের সোনাতনকাটি গ্রামের এসকেন্দার শেখ।

গত ২ মে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকিকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের স্মার্ট কৃষি নির্ভর করতে পাইকগাছায় সরকারের ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে এদিন ৩টিসহ মোট ৭টি কৃষি যন্ত্রপাতি (কম্বাইন হারভেস্টার) বিতরণ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ।

এদিন উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন অত্যাধুনিক কৃষিযন্ত্রের চাবিগুলো তুলে দেন কথিত উপকারভোগীদের হাতে এ কম্বাইন হারভেস্টারগুলো বিতরন করা হয় বলে জানানো হয়। এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অসীম কুমার দাশ ও উপকার ভোগীরা উপস্থিত ছিলেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি অফিস থেকে জানাযায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের উপকারভোগী মুজাহিদুল ইসলাম একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। চাষাবাদের মতো কোনো জমি নেই তার। ১৫ লাখ টাকা দিয়ে হার্ভেস্টার যন্ত্র কেনার সক্ষমতাও নেই তার। হারভেস্টার নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জমি নেই, মেশিন কিনে কী করব।’

কানাখালী গ্রামের প্রদীপ সানা পেশায় এজন শ্রমজীবী। তার নামে একটি হার্ভেস্টার যন্ত্র বিতরণ দেখানো হয়েছে। যদিও এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার যন্ত্র কী, তা বুঝতে পারেননি। পরে বলেন, ‘একটা যন্ত্র নিয়েছিলাম। তা এখন অফিসেই আছে।’

আরেক উপকারভোগী হরিঢালী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে কৃষি অফিস থেকে যন্ত্রটি নিয়েছিলাম। তবে এখন সেটি বাইরে রয়েছে বলে দাবি করলেও ঠিক কোথায় এবং কি কারণে রয়েছে তার সদুত্তর দিতে পারেননি।

এব্যাপারে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের কাজীমুছা এলাকার উপকারভোগী কৃষক নওশের আলী খাঁ জানান, তারা যৌথভাবে নাকি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনটি কিনেছিলেন। তবে বর্তমানে মেশিনটি রংপুরে রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

অনুসন্ধানে উঠে আসে তালিকাভূক্ত উপকারভোগীদের অনেকেই প্রকৃতার্থে কৃষক নন। তাদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ রাজনৈতিক কর্মী ও শ্রমজীবি। মূলত তাদের নামে হারভেস্টারগুলো বরাদ্দ দেখিয়ে কেউ বা কারা তা হজম করে ফেলেছে। ব্যাপকভাবে খোঁ নিয়ে জানাযায়, তাদের কারো কাছেই হারভেস্টারের একটিও পৌছেনি। কাগজে- কলমে বিতরণ দেখিয়ে ভর্তুকির টাকা সংশ্লিষ্ট চক্রটি তুলে নিয়ে নিয়েছে বলেও রয়েছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্র জানায়, প্রতিটি কম্বাইন হারভেস্টারের মূল্য ২৮ লক্ষ টাকা। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় উপকূল ও হাওরাঞ্চলের জন্য ৭০% এবং অন্যান্য এলাকায় কৃষকের জন্য উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে ৫০% ভর্তুকি মূল্যে কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাইকগাছার কৃষকরা প্রতিটি হারভেস্টারে ১৪ লক্ষ টাকা ভর্তুকি পেয়েছেন।

২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদী ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পটিতে শুরু থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। যান্ত্রিকীকরণ এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল কৃষক যাতে ফসল উৎপাদন বাড়াতে, সময় বাঁচাতে ও মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে। তবে বিভিন্ন সময় মিডিয়ার তথ্যানুসন্ধানে উঠে আসে কৃষক নয়, বরং মুনাফা নিশ্চিত হচ্ছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।

ইতোমধ্যে প্রকল্প নিয়ে নানাবিধ অভিযোগ জমা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক তদন্তের জন্য নথি পাঠায় কৃষি মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় গেল বছর তদন্ত কমিটি করলেও দীর্ঘ দিনেও এর তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এছাড়া খোদ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) গত ২০২৩ সালের ৩০ জুন প্রকাশিত নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে প্রকল্পে দুর্নীতির খতিয়ান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের ভর্তুকির সুবিধায় সুযোগ নিচ্ছেন কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, যন্ত্র সরবরাহকারীসহ কতিপয় দালাল চক্র। খুলনার পাইকগাছার চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, ভুয়া উপকারভোগী দেখিয়ে প্রকৃত কৃষকদের বদলে হারভেস্টার যন্ত্রগুলো চলে গেছে অন্যের কাছে। গত ২ মে বিতরনের জন্য পাইকগাছায় নেওয়া হয়। যা বহনকারী গাড়িতেই ছিল। শুধু মাত্র চাবি হস্তান্তরের পর বহনকারী গাড়িতেই ফিরে গেছে মেশিনগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে। কোথাও বরাদ্দ হলে সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লোক দেখানো এলাকায় নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরন দেখিয়ে কথিত উপকারভোগীসহ সিন্ডিকেটের সাথে দরদাম মিটিয়ে মেশিন নিয়ে ফের তারা ফিরে যান। এভাবেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে লোপাট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা।


*উপসহকারী কৃষি কর্মতার কাছে নেই কোন প্রকার তথ্য
*বাছাই কমিটির সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান জানেননা বিষয়টি
*উপকারভোগী কৃষকদের বক্তব্য মেশিনগুলো বাইরে রয়েছে
*আবেদন অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে মেশিনগুলো বাইরে রয়েছে।

মৌসুমে ফিরিয়ে আনা হবে- কৃষিকর্মকর্তা
*যন্ত্রগুলোর অবস্থান নিয়ে তারাও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন।

আগামীতে বড় মেশিনের সুপারিশ করবেননা- কৃষি কর্মকর্তা


সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে যন্ত্র বরাদ্দ পাওয়ার পর তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন প্রকল্প পরিচালক। ভর্তুকি দরে যন্ত্র কেনার জন্য কৃষকের আবেদনের পর খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেন উপজেলা বাছাই কমিটি। বাছাই কমিটিতে থাকেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের পর উপকারভোগী কৃষকদের প্রত্যয়নপত্র দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ভর্তুকি বাদে বাকি টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে কৃষক ডিলারের কাছ থেকে যন্ত্রটি সংগ্রহ করেন বলে জানানো হয়।

তবে খুলনার পাইকগাছায় বরাদ্দ পেয়ে গত ২ মে সহ ৭টি কম্বাইন হারভেস্টার বিতরন করা হয়। তবে বিতরনের পর থেকে মাত্র দু’মাসেও যন্ত্রগুলোর হদিস মিলছেনা এলাকায়। এমনকি কৃষি অফিসের কাছেও যন্ত্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
এব্যাপারে উপকারভোগী কৃষকের ব্লক এলাকা উপজেলার হরিঢালী এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত এর কাছে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি তাই তার কাছে কোন তথ্য নেই। উপজেলা কৃষি অফিসে খোঁজ নেন বিস্তারিত জানতে পারবেন।

কথা হয় আরেক উপকারভোগী নওশের খাঁর ব্লক এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইয়াছিন আলীর সাথে। মুঠোফোনে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, উপকারভোগীর সম্পর্কে কৃষি অফিস থেকে তার কাছে কোন তথ্য জানতে চাওয়া হয়নি। এমনকি বিতরনের দিনও তাদের জানানো হয়নি। তবে পরে খবর পেয়ে তিনি কপিলমুনির কাজীমুছা এলাকার কথিত উপকার ভোগী নওশের খাঁর পিতা মিজানুর খাঁর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যাপারে তাদের কাছে দেওয়ার মত কোন তথ্য নেই। এমনকি তিনি এখন পর্যন্ত এলাকায় এধরনের কোন যন্ত্র চোখে দেখেননি বলেও জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের এ কৃষি কর্মকর্তা।

এবিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কৃষিবিদ অসীম কুমার দাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত সকলে হারভেস্টার মেশিন গ্রহন করেননি। কয়েকটি মেশিন বিতরন হয়েছে। এসময় তার কাছে উপকারভোগী কৃষকের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকেউ যন্ত্র চেয়ে আবেদন করলে তদন্ত পূর্বক ভর্তুকির টাকা দিয়ে হারভেস্টার নিতে পারেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে তাদেরকে হারভেস্টারগুলো বরাদ্দ দিতে প্রত্যায়ন দেওয়া হয়।

তবে হারভেস্টারগুলো প্রকৃত উপকারভোগীরা পেয়েছেন কিনা কিংবা সেগুলোর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে উপকারভোগীরা এটি হস্তান্তর করতে পারবেননা। তবে অন্যত্র ভাড়া দিতে পারবেন। সে অনুযায়ী কৃষকরা এগুলো অন্যত্র ভাড়া দিয়ে থাকতে পারে। তবে মৌসুমে হারভেস্টারগুলো এলাকায় ফিরিয়ে আনা হবে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্টদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তার।

কৃষকদের নামে বরাদ্দ ও বিতরনকৃত যন্ত্রগুলো অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারাও বেশ বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে এ অঞ্চলে এত বড় মেশিনের জন্য সুপারিশ করবেননা। চাহিদা অনুযায়ী ছোট মেশিনের জন্য কৃষকদের প্রত্যায়ন দেবেন।

এবিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আনন্দ মোহন বিশ্বাসের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার নির্বাচিত হওয়ার আগে মেশিনগুলি বিতরন হয়েছে। তবে কোন অনিয়ম হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

এব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীনেন কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে কম্বাইন হার্ভেস্টার যন্ত্র বিতরণের তালিকা দেখেছেন তিনি। তবে বিতরণ হয়েছে কিনা, তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। যদিও ২ মে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি ২টি মেশিন বিতরন করেন এর কথিত উপকারভোগীদের হাতে।

 

17422

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর