মাদকের ভয়াল থাবা আজ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড কুমারখালি গ্রামেকে গ্রাস করছে। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রামের প্রায় ৯০ ভাগ সাধারণ মানুষ সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা মনে করেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু ব্যক্তিকেই নয়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মাদকের সহজলভ্যতা এবং এর ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। তারা মনে করেন, প্রশাসন যদি কঠোর হাতে মাদক নিয়ন্ত্রণ না করে, তাহলে এ এলাকার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মাদকের বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে।
গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনে করেন, মাদকের পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ। এর মধ্যে রয়েছে: সহজলভ্যতা: বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক অবাধে এ গ্রামে প্রবেশ করছে। বেকারত্বের কারণে হতাশাগ্রস্ত তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকছে। পারিবারিক কলহ: পারিবারিক অশান্তি ও অস্থিরতাও মাদকের অন্যতম কারণ। শিক্ষার অভাব: শিক্ষাবঞ্চিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সহজেই মাদকের শিকার হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা কুমারখালি সচেতন সংঘের উপদেষ্টা মোঃ রকমান গাজী, কুমারখালি গ্রামের সচেতন সংঘের উপদেষ্টা মোঃ মহিউদ্দিন চৌধুরী, মোঃ ফারুক হোসেন, কুমারখালী গ্রামের সচেতন সংঘের উপদেষ্টা মোঃ মুকবুল হোসেন, ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোঃ আওলাদ চৌধুরী এবং বয়রাগাদী ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম জানান, এ গ্রামে বেশ মাদকের আনাগোনা রয়েছে সিরাজদিখান থানার পুলিশের মাধ্যমে আমাদের কাছে তথ্য আছে কারা মাদকের সাথে জড়িত রয়েছে। এই এলাকার বাহির থেকে কিছুলোক এলাকায় এসে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সাথে জড়িত রয়েছে। আমরা তাদেরকে ইতোমধ্যে সতর্ক করতেছি যদি তারা আমাদের কথা না শুনে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারা আরো বলেন সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এর জন্য সরকার, প্রশাসন, পরিবার এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একদিন মাদকাসক্তিমুক্ত একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়তে সক্ষম হব।
এবিষয়ে সিরাজদিখান থানার পুলিশ বয়রাগাদী ইউনিয়ন বিট অফিসার এএসআই কামরুজ্জামান বলেন, মাদকের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার স্যার, সিরাজদিখান টঙ্গীবাড়ী (সার্কেল) স্যার এবং সিরাজদিখান থানার ওসি স্যারসহ সকল পুলিশ সদস্যরা একেবারে জিরো টলারেন্স।