- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ফিডিং কর্মসূচিতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মসহ নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্কুলে পরিবেশিত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ থেকে শুরু করে নানা অনিযমের ঘটনা অভিযোগের পাল্লা ভারি করছে। বিশেষ করে হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অভিভাবক মহলে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
সরবরাহকৃত খাদ্য তালিকায় থাকা বনরুটির প্যাকেটে উৎপাদন কিংবা মেয়াদোতীর্ণের তারিখ। আর এ সুযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক সাথে প্রস্তুতকৃত রুটি পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করছে। যার অধিকাংশ রুটিতে ফাঙ্গাস পড়ে থাকে। সচেতনতার অভাবে কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত খাদ্যঅনুপযোগী এসব রুটি হরহামেশা ঢুকছে শিশুর পেটে। কেউ কেউ খেতে না পেরে ফেলেও দিচ্ছে। সরবরাহকৃত ডিম নিয়েও অভিযোগের কমতি নেই। কলাগুলোর অধিকাংশই ভেতরে শক্ত কিংবা কাঁচা, আধা পাকা। প্যাকেটজাত ইউএইচটি দুধ’র গুণগত মান নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট অভিযোগ! তালিকায় বিস্কুটের উল্লেখ থাকলেও তার দেখা মেলেনি আজও।

প্রাথমিকের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের খাদ্য সরবরাহে এমন বিস্তর অভিযোগ শুরু থেকেই। এরই মধ্যে (২০ এপ্রিল) সোমবার কপিলমুনিতে সরবরাহকৃত বনরুটি ছিল দুর্গন্ধ ও ফাঙ্গাসযুক্ত। এদিন কপিলমুনির ৮নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত রুটিগুলো তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশন না করেই সেখানকার প্রধান শিক্ষক মো: নূরুজ্জামান ভর-দুপুরেই ব্যাগ ভর্তি করে অভিযোগসহ ছুটলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসে।
অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার ৮ নম্বর কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উপস্থিত হলে অভিযোগের সরাসরি সত্যতা মেলে। এদিন বিদ্যালযের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ কতৃপক্ষের অভিযোগেও ছিল শতভাগ সত্যতা।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ জানান, এমনতর অভিযোগ উপজেলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, পাবনার ওসাকা নামের এক এনজিও ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেলেও পাইকগাছা উপজেলায় খাদ্য সরবরাহ করছেন বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাহদী হাসান। নিজেকে মাদ্রাসা শিক্ষক দাবি করে পণ্য সরবরাহে নিজের সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ফিডিং কর্মসূচি পরিচালনা করছে সরকার। সপ্তাহে ছয়দিন এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপজেলার ১৬৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

তবে শুরু থেকে নানা অনিয়মের পাশাপাশি নিম্ন মানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে জনমনে চরম ক্ষোভ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাচ্চাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি অভিভাবকসহ স্থানীয়দের।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।