- শেখ নাদীর শাহ্ ::
কখনো সন্তান, কখনো ছোট ভাই আবার কখনো আপনজনদের ইস্যু করে বড় ধরনের বিপদের ভয় দেখিয়ে মোবাইলে অভিভাবকদের টার্গেট করে দাবি করা হচ্ছে টাকা। অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও চাতুরতার সাথে ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ পেতে সক্রিয় চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
আকষ্মিক অপরিচিত নম্বর থেকে মোবাইলে জানানো হচ্ছে, আপনার আদরের সন্তান বিপদে আছে। কখনো বলা হচ্ছে, আপনার সন্তান মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে আটক আছে। বি-কাশে টাকা পাঠালে মামলা ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এসময় কান্নামাখা কন্ঠে ছেলে সাজিয়ে কথা বলানো হচ্ছে, আব্বু- আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সাথে ম্যাজিস্ট্রেট আছে, মামলা দেওয়ার আগেই আমাকে টাকা-পয়সা দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এমন নানা ইস্যুতে নতুন নতুন ভঙ্গি বা কথার জালে আটকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অপর প্রান্তের মোবাইল ব্যবহারকারী কখনো নিজেকে ডিবি কর্মকর্তা আবার কখনও ম্যাজিস্ট্রেট বলে পরিচয় দিচ্ছে। এসময় আস্থা বা বিশ্বস্থতা আনতে বাজানো হচ্ছে পুলিশের গাড়ির হুইসেল।
এদিকে প্রতারক চক্রের সদস্যরা আবার বিষয়টি অভিভাবককে গোপন রাখার কথা বলে বিকাশে জরিমানার টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে।
সম্প্রতি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, ৩৫ হাজার টাকা। সর্বশেষ অনুরুপ ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছেন, স্থানীয় সাংবাদিক শেখ আব্দুল গফুর।
তিনি জানান, ৯ই মে বিকাল ৫ টা ৪৬ মিনিটে ০১৬৩৫৪৯৮০৩৪ নম্বর থেকে ডিবি অফিসার ফারুক পরিচয়ে ঐ চক্রের সদস্য তাকে ফোন করে জানান, আপনার সন্তান মাদকসহ ধরা পড়েছে। এখন সে পুলিশের গাড়িতে রয়েছে বলে পুলিশের গাড়ির হুইসেল বাজানো হয়। এক পর্যায়ে ডিবি পরিচয়দানকারী ব্যক্তি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের সাথে কথা বলেন, এখনই জরিমানার ৩৫ হাজার টাকা ০১৬০৭৪৩৮৩৫১ নং বিকাশের মাধ্যমে পাঠালে আপনার সন্তানের নামে মামলা হবে না, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
তার কথায় শেখ আব্দুল গফুরের সন্দেহ হলে তিনি সাফ মামলা দেওয়ার কথা জানালে অপরপ্রান্ত থেকে ফোনটি কেটে দেওয়া হয়।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বার সংগ্রহ করে এই প্রতারক চক্রের কাছে সরবরাহ করছে।
সর্বশেষ এসব সিরিজ ঘটনার খবরে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন অভিভাবকমহল এব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।