1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
পাইকগাছার লতায় নদী ভরাটি ও ভিপি সম্পত্তি দখলে নিয়ে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্য কুমারেশ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা ৫-০ সুইজারল্যান্ড ডুমুরিয়ায় লটকনের বাম্পার ফলন: লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা টানেলে স্কালোনিকে সামনে পেয়ে চিৎকার করে কী বলেছিলেন মিশর কোচ (ভিডিও) আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে রেফারির দায়িত্ব পাবেন না অলিভার শ্যামনগরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গাড়ি বহরে হামলার মামলায় আ’ লীগের দু’ ইউপি চেয়ারম্যান সহ ১০ জন কারাগারে মিশরের গোল বাতিল হলেও যে কারণে আর্জেন্টিনার গোল বৈধ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে মিশরের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আর্জেন্টিনা ম্যাচে কেন ‘এক্স’ সংকেত দেখিয়েছেন মিশর কোচ, এর মানে কী? সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

পাইকগাছার লতায় নদী ভরাটি ও ভিপি সম্পত্তি দখলে নিয়ে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ইউপি সদস্য কুমারেশ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫১ বার পঠিত
putimari-16970
  • ‎শেখ দীন মাহমুদ::

‎পাইকগাছার লতায় সরকারি নদী ভরাটি, পাউবো ও ভিপি সম্পত্তি দখল করে বিলাসবহুল বাগান বাড়ি নির্মাণের খবর প্রকাশে দম্ভোক্তি প্রকাশ করেছেন, দখলদার স্থানীয় ইউপি সদস্য কুমারেশ মন্ডল ও তার ভাই জেলা স্বেচ্ছাসেবক লেিগর সাবেক নেতা প্রশান্ত মন্ডল। তাদের দম্ভ, টাকা থাকলে ওসব লেখালেখি কোন আমলে আসেনা!

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে প্রতিবেদনকালে দেখা যায়, স্থানীয় ৫৫.৮৯ একর আয়তনের উলুবুনিয়া নদীর গতিপথ রোধ করে এর উৎস্য মুখ কার্লভার্টের মুখ দখল করে বাড়ি নির্মাণ করায় মাত্র কযেক বছরে নদীর নব্যতা হ্রাস পেয়ে উঁচু ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই সুযোগে কুমারেশ মেম্বরসহ নদী তীরের বাসিন্দারা নদী দখলের মহোৎসবে মেতে উঠেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাষনামলে দলীয় প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে সরকারি নিজেদের করে নিয়ো এ দখল মহোৎসবের নেতৃত্বে রয়েছেন তারা।

সর্বশেষ পাতানো ইউপি নির্বাচনে কুমারেশ মন্ডল ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হয়ে দখল প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারণ করেন। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থেকে এখন সরকার সরকার দলীয় কতিপয় নেতা-কর্মীদের সাথে সখ্যতা রেখে দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় কপিলমুনির নাছিরপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে উলুবুনিয়া নদীর ইজারা নিয়ে সমিতির অন্যতম কর্ণধর রবীন্দ্র রাথ বিশ্বাস’র নিকট থেকে সাব ইজারা নিয়ে উলুবুনিযা নদী পরিচালনা ও নেট-পাটা দিয়ে মাছ করতেন দখলদারদের একজন প্রশান্ত মন্ডল ওরফে সেজে। সেই সময় থেকে নানা উপায়ে সঙগবদ্ধভাবে নদী শাষন ও দখল প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেন তারা। এরপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের।

‎নদী অববাহিকার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার কালভার্টের মুখটির কাছে কুমারেশ ও প্রশান্ত মন্ডলের বিলাসবহুল বাড়ির সীমানা। যা প্রতি নিয়ত সম্প্রসারিত করে যা নদীর অপর পাড় পর্যন্ত ঠেকেছে। গত ২০১৮ ও ২০২১ সালে নদীটির পানির প্রবাহ সচল রাখতে সরকারি অর্থায়নে খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও, ক্ষমতার বলে মূল গতিপথকে আড়াল করে নামমাত্র খননকাজ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়। এনিয়ে সে সময় স্থানীয় শামুকপোতা বাজারে আন্দোলন সংগ্রাম করতে দেখা যায় স্থানীয়দের। তবে এতে তাদের মখল কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি বিন্দুমাত্র।

ulubuniya-16895

‎অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নদী দখল ছাড়াও বিস্তর ভূমি গ্রাসের অভিযোগ রয়েছে। তারা শামুকপোতা বাজারে মন্দির সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে সরকারি বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করেছেন। কুমারেশ ও প্রশান্ত বর্তমানে যে জায়গায় বসবাস করছেন এবং তার সামনে থাকা ৯ বিঘা জমি-সেটি মূলত সুদীপ্ত মন্ডল নামের এক ব্যক্তির সরকারি বন্দোবস্তের (ডিসিআর) জায়গা। প্রথমে তারা জমিটি ‘হারি’ (লিজ) হিসেবে নিলেও এখন তা সম্পূর্ণ নিজেদের দখলে নিয়েছেন। প্রভাবশালী এই চক্রের ক্ষমতার দাপটে এলাকায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।

‎ভূমি ও নদী দখলের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রশান্ত মন্ডল দাবি করেন যে তারা সরকারি জমি লিজ নিয়েছেন। তবে এর সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।

জমির মালিকানার নথিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, গত ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে তার বাড়িতে আগুন দিয়ে সব কাগজপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা লতা ইউনিয়নের বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি ইব্রাহীম গাজী এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এটা নদীর জায়গা না। এই জমি আকবর (ওরফে) আকু মেম্বারের ডিসিআর কাটা। উনার কাছ থেকে অনেক আগে প্রশান্তরা লিজ নিয়ে করে। তিনি আরো বলেন ডিসিআর এর জমি হস্তান্তর যোগ্য নয়।

এই বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী বলেন, “সরকারি সম্পত্তি বা নদী দখল করার কোনো সুযোগ নেই। লতা ইউনিয়নে সরকারি ভিপি সম্পত্তি ও নদী অববাহিকা দখলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

‎এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরী জানান, বিষয়টা জানা ছিল না, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রকাশ্য দিবালোকে একটি নদীর অস্তিত্ব সংকটে ফেলে এবং সরকারি ভিপি সম্পত্তি দখল করে বিলাসবহুল স্থাপনা নির্মাণের এই ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই সম্পত্তি সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর