মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনারং জোড়া মঠ ও কাঠাদিয়া সার্ক হাই স্কুল পরিদর্শন করেছেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. শুইনীন রশীদ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে টঙ্গিবাড়ী সফরে এসে তিনি স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা সোনারং জোড়া মঠ ঘুরে দেখেন তিনি।
সফরের শুরুতে শনিবার সকালে কাঠাদিয়া সার্ক হাই স্কুলে পৌঁছালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, স্বপ্ন ও আগ্রহের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরাও তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও প্রত্যাশার কথা রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরে। এ সময় রাষ্ট্রদূত ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণবন্ত ও আন্তরিক কথোপকথন হয়। বিদেশি একজন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে দুপুর দেড়টার দিকে টঙ্গিবাড়ীর সোনারং এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সোনারং জোড়া মঠ পরিদর্শনে যান মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত।
সেখানে তিনি মঠের স্থাপত্যশৈলী, নির্মাণকৌশল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় তিনি ঐতিহাসিক স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও ধারণা নেন।
সোনারং জোড়া মঠ মুন্সিগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে এ স্থাপনাটি।
মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতের এ সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে মুন্সিগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফরের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রত্নসম্পদ, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনার প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ আরও বাড়বে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ এবং দেশ-বিদেশে এর পরিচিতি তুলে ধরতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।