- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পাইকগাছার হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সৃষ্ট পদে পত্রিকায় কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডলের বিরুদ্ধে ১১ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
এর আগে গত ২৩ জুলাই প্রতারণার শিকার প্রিয়াংকা মল্লিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গত ২৭ জুলাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) যার স্মারক নং- ০৫.৪৪.৪৭৬৪.০০১.৩৪.০০৩.২৬-১০২৪।
এরপর তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: পার্থ প্রতিম রায় গত ৩ আগস্ট ৩৩. ০১. ৪৭৬৪. ০০০. ২৭.০০২.২৬-২৪৬ নং স্মারকে একপত্রে অভিযোগের বিষয় তদন্তে সংশ্লিষ্টদের আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০ টায় হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তা করতে অনুরোধ করেছেন।
এর আগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনলাইন দৈনিক দীপ্তনিউজ২৪.কম সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় এ সংক্রান্তে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও সর্বশেষ সাংবাদিকসহ প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেন অভিযুক্ত সুধাংশু শেখর মন্ডল। এমনকি অভিযোগকারী প্রিয়াংকার স্বামী তীর্থ মন্ডলকেও বিসয়টি মিমাংশা করে নিতে বসাবসির প্রস্তাব দেওয়া হয় তারই এক লবিষ্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য’র আস্থাভাজন জনৈক মোজাপ্ফরকে দিয়ে। যদিও বসাবসিতে তীর্থকে একা আসতে বলায় তিনি রাজী হননি। এর আগে অভিযোগ ও মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের বরাদ দিয়ে কপিলমুনি প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি এইচ,এম শফিউল ইসলাম সর্বশেষ আইন-শৃঙ্কলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়ে উপস্থিতিদের নজর কাড়েন।
লিখিত অভিযোগে প্রতারণার শিকার চাকুরি প্রার্থী প্রিয়াংকা মল্লিক জানান, উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জনবল কাঠামো ও এমপিও নিতিমালা/২০২১ অনুসারে সৃষ্টপদে যথাক্রমে নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক প্রতিটি পদে একজন করে এবং নিরাপত্তা কর্মী পদে একজন সহ মোট ৪ জন কর্মচারী পদে লোক নিয়োগের জন্য গত ১২/১০/২০২৩ তারিখে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় পূন:নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৫ শত টাকার পোস্টাল অর্ডারসহ প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর আবেদন করতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডল পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে পরীক্ষার আগেই তার কাছ থেকে ৪ কিস্তিতে ১১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা গ্রহন করেন। তবে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও পরীক্ষা গ্রহন করতে না পারায় সুধাংশুর কাছে তাকে দেওয়া সমুদয় টাকা ফেরৎ চান। প্রথমত পরীক্ষা গ্রহনে নানা টালবাহানা ও পরে টাকা দিতে অস্বীকার এমনকি সেসব টাকা ঐসময় তিনি সাবেক এমপিসহ বিভিন্ন জনকে প্রদান করেছেন মর্মে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমত সাংবাদিক ও পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ঐ লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর মন্ডল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি তিন কিস্তিতে প্রিয়াংকার স্বামী তীর্থ মন্ডলের কাছ থেকে মোট ৯ লক্ষ ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তবে সেসব টাকা তিনি সাবেক এমপি ও তার এক নিকটাত্নীয়কে প্রদান করেন। এমনকি সাবেক ঐ এমপি বর্তমানে কারান্তরীন থাকায় তিনি তাকে প্রদেয় টাকা ফেরৎ চাইতে পারছেননা। তবে নিকটাত্নীয়কে দেওয়া টাকা আদায়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে দাবি করলেও তিনি তার স্বপক্ষে কোন প্রমান দেখাতে পারেননি।
এছাড়া তিনি এসময় আরোও দাবী করেন যে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঐ নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে অভ্যুত্থানে সরকার পতন হওয়ায় সেদিন পরীক্ষাগ্রহন সম্ভব হয়নি। যদিও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কেননা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহনের জন্য ৬ মাসের মেয়াদ থাকলেও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর। এরপর পরবর্তীতে আর কোন বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে প্রায় ৮ মাস পর তিনি কিভাবে ৫ আগস্ট পরীক্ষার আয়োজন করেন? এমন প্রশ্নেরও তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
এরপর সম্প্রতি তিনি একটি আঞ্চলিক দৈনিকে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ দিয়েছেন।
প্রতিবাদে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৎ ও ন্যায়নীতি পরায়ন উল্লেখ করে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত কাজের সুনাম ক্ষুন্ন করে বস্তুনিষ্ঠহীন ও ভূয়া খবর পত্রিকায় সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এতে তিনি আরোও উল্লেখ করেছেন যে, শতভাগ সরকারি বিধি মোতাবেক কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাক্কালে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার প্রিয়াংকার অভিযোগ, মিডিয়ায় খবর প্রকাশ ও উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পক্ষে নিতে বিভিন্ন মহলে দৌড়-ঝাঁপ ও নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট বহিরাগত ও সাবেক আ’লীগ দলীয় সুহৃদদের সাথে দফায় দফায় মিটিং-সিটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমনকি স্কুলের সাবেক পরিচালনা পরিষদের কতিপয় প্রভাবশালী সদস্যদেরকেও বশে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও অভিযোগকারী প্রিয়াংকা ও তার স্বামী তীর্থ মন্ডলের কাছ থেকে ৪ কিস্তিতে নেওয়া ১১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা তিনি একাই গ্রহন করে আত্নসাৎ করেছেন।