- মোঃ হুমায়ুন কবির ::
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা অতিবৃষ্টি ও ঘেরের পানির লবণাক্ততার ভারসাম্যহীনতায় চিংড়ি চাষে দেখা দিয়েছে নতুন সংকট।
কয়েক দফা ভারী বর্ষণে ঘেরের পানির লবণাক্ততা দ্রুত কমে যাওয়ায় চিংড়ির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায় উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। এতে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলার মহারাজপুর, কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী, আমাদী, বাগালী ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এবং চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ ঘেরে পানির গুণগত মানের পরিবর্তন ঘটেছে। অনেক ঘেরে চিংড়ি খাবার গ্রহণ কমিয়ে দিয়েছে, বৃদ্ধি ধীর হয়ে গেছে এবং কিছু কিছু স্থানে চিংড়ি মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
চিংড়ি চাষি গাজী আলাউদ্দীন বলেন, এবারের টানা বৃষ্টিতে ঘেরের পানির অবস্থা একেবারে বদলে গেছে।
আগে যে হারে চিংড়ি বড় হতো, এখন তা হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে মৌসুম শেষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
আরেক চাষি মামুন জানান, ঘেরের পানি ঠিক রাখতে বারবার চুন, খনিজ উপাদান ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে। কিন্তু বাজারে চিংড়ির দামও আশানুরূপ নয়।
চাষিরা জানান, ঘেরের পানির গুণগত মান ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, পানি পরিবর্তন ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সমীরণ কুমার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক ঘেরে পানির লবণাক্ততা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেছে। এতে চিংড়ির বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। আমরা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। ঘেরের পানির পিএইচ, লবণাক্ততা ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে চুন ও খনিজ উপাদান ব্যবহার করে পানির গুণগত মান ঠিক রাখতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মৎস্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছে এবং যেকোনো সমস্যায় চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চাষিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঘের পরিচালনার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি চাষ দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছরই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন চাষিরা। তাই এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সময়োপযোগী কারিগরি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং সরকারি প্রণোদনা- এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।