- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পাইকগাছার কপিলমুনিতে ইউপি ভবনের দোকানঘর ভাড়া নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় শর্ত ভঙ্গ করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যদিও চেয়ারম্যানসহ কর্তৃপক্ষ বলছে বিষয়টি জানানেই তাদের।
অভিযোগে জানানো হয়, পাইকগাছা উপজেলার কাজীমুছা (রামচন্দ্র) গ্রামের মৃত অনিল কৃষ্ণ দাশের ছেলে মনোরঞ্জন দাশ গত ২৭/১২/৮৬ সালে তৎকালীণ কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান সরদার রোকন উদ্দীন আহম্মেদের নিকট থেকে ভবন নির্মাণে নিমিত্তে দু’কিস্তিতে ১৫ হাজার টাকা প্রদান করে মাসিক ৫০ টাকা ভাড়া চুক্তিতে কপিলমুনি মৌজাস্থ ১৫২/১ নং খতিয়ানের ১৭৩ দাগের উপর নির্মিত ইউপি ভবনের ১৫/১৩ স্কয়ার ফুটের একটি ঘর ভাড়া নেন। শর্ত থাকে কখনো কোন প্রকার ঘর অন্যত্র হস্তান্তর করা যাইবেনা।
তবে মনোরঞ্জন দাশ প্রথম থেকেই মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিয়ে অন্যত্র বেশি টাকা চুক্তিতে অন্যত্র ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গত প্রায় ৩ বছর আগে তিনি স্থানীয় প্রদীপ ঘোষের নিকট প্রথমত চা দোকান, বর্তমানে (সাথী জুয়েলার্স ব্যাবসায়ী) কাছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা অগ্রীম জামানত নিয়ে ২ হাজার টাকা মাসিক চুক্তিতে দোকান ঘরটি ভাড়া দেন।
সম্প্রতি তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মনোরঞ্জন দাশ এবার ভাড়া নয়, আছাদুল ইসলাম নামে এক ব্যাবসায়ীর নিকট মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তর করেছেন।
সম্প্রতি দোকানের দখল বুঝে পেতে বর্তমান সাথী জুয়েলার্সের মালিক প্রদীপ ঘোষের বিরুদ্ধে স্থানীয় বণিক সমিতিতে একটি অভিযোগ দাখিল করলে বিষয়টি প্রচার হয়।
কপিলমুনি ইউপি থেকে মনোরঞ্জন দাশের গৃহিত চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে যে, ১৫/১৩ ফুট আয়তনের ঘরনির্মাণ পূর্বক ভাড়া প্রদানের জন্য গত ৩/৬/৮৫ তারিখের ইউপির মিটিংয়ের ৬নং কলামের মন্তব্য মোতাবেক ৩০৯ নং রসিদের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা গ্রহনপূর্বক পজিশন দেওয়া হয়। কিন্তু ঐ টাকায় বিল্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পরে ৭/১০/৮৫ তারিখে ইউপি মিটিংয়ে ১১ নং কলামের মন্তব্য মোতাবেক আরোও ৫ হাজার টাকা গ্রহনের সিদ্ধান্ত ও পরে ৭/১২/৮৫ তারিখে ইউপি মিটিংয়ের ৮সং কলামের মন্তব্য মোতাবেক পজিশন গ্রহীতাদের বিষয়টি জানানো হয়। এবং ১৯৮৬ সালের জানুয়ারী হতে ঘর ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাকি কাজ সম্পন্ন করতে আরোও ৫ হাজার সহ সর্বমোট ১৫ হাজার টাকা গ্রহনপূর্বক পরিষদের দোকান ঘরের পজিশন হস্তান্তর এবং ৩/৬/৮৬ তারিখের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাসিক ঘরভাড়া হিসেবে ৫০ টাকা ভাড়া নির্দ্ধারণ করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৭/১২/৮৬ তারিখে এ চুক্তপত্র অনুযাযী দোকান ঘর বা পজিশন কোনভাবে হস্তান্তর করা যাবেনা মর্মে উল্লেখ থাকলেও চুক্তিপত্র গ্রহীতা মনোরঞ্জন দাশ ইতোমধ্যে তার পজিশটি জনৈক আসাদুল ইসলামের নিকট বিক্রি করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পরিষদের সচিব মো: জাভেদ ইকবাল জানান, পরিষদের দোকান ভাড়া নিয়ে তা হস্তান্তরের সুযোগ নেই।
এব্যাপারে স্থানীয় কপিলমুনি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কপিলমুনি শাখার সভাপতি মো: ইউনুস আলী জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সর্বশেষ এব্যাপারে কপিলমুনি সাথী জুয়েলার্সের মালিক প্রদীপ ঘোষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি পরিষদের দোকানের মনোরঞ্জনের ভাড়াটিয়া ছিলেন। মনোরঞ্জন দোকান ঘর স্থানীয় অপর ব্যাবসায়ী আছাদুলের নিকট বিক্রি করে দেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
দোকান ঘর হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা ইউনিয়ন পরিষদ, ভাড়া গ্রহীতা মনোরঞ্জন দাশ ও সর্বশেষ ক্রেতা আছাদুলের বিষয়।