1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুনের পর ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে আগুন, রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি খুলনায় ৭১টি পরিবারের জমি দখল সহ চাঁদাদাবি ও হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন মুন্সীগঞ্জে ৪ আগষ্টের সকল শহীদদের স্মরণে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন সৈয়দপুরে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার, নারীসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার দেশটা আমাদের সবার, পরিবেশও আমাদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন সজীব ওয়াজেদ জয় টঙ্গীবাড়ীতে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন এলএফএফ মোঃআনিসুজ্জামান শার্শায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে জমির প্রকৃত মালিককে জীবন নাশের হুমকি সাতক্ষীরায় সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পিআইওর মফিজের বিরুদ্ধে ডিসির নিকট অভিযোগ

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুনের পর ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত
satkhira-17191

নিরাপদে সরানো হলো রোগীদের,ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ অসুস্থ ৫০

  • আক্তারুল ইসলাম::

গত ৩ আগষ্ট রাত ৯ টার দিকে হঠাৎ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লাগার ঘটনার পর সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো হাসপাতাল ভবন আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেও দ্রুত রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ৮ থেকে ১০ জন সদস্য।ফায়ার সার্ভিস ও ধোয়ায় অসুস্থ হয়েছেন ৫০জন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে শহরের পলাশপোল পুরাতন সিবি হাসপাতাল, বর্তমানে ব্লিস হাসপাতালের বেজমেন্টে থাকা একটি যন্ত্রে আগুন লাগে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার সময় হাসপাতালে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে আইসিইউর রোগী ও চারজন নবজাতকও ছিল।

হাসপাতালের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেন, বেজমেন্টে আগুন লাগার বিষয়টি প্রথমে নিরাপত্তাকর্মী ফোন করে হাসপাতালের ব্যবস্থাপককে জানান। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। আইসিইউর রোগী, নবজাতক এবং লিফটে আটকে থাকা ব্যক্তিদেরও নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কয়েকটি কেবিনের রোগীর স্বজনেরা বাতাস প্রবেশের জন্য হাসপাতালের কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় ভাঙা কাচে আহত হন হাসপাতালের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার।

satkhira-17192

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অভিযানের সময় ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ থেকে ১০ জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সেখানে যান সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। এ ছাড়া জেলা বিএনপির নেতা এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১০ জন সদস্য অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে নিরূপণ করা হবে।”

সাতক্ষীরার ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগুন আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্তণে। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

অপর দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের একটি গ্যারেজে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সফলভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার স্টেশনে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে আগুনের খবর পৌঁছানোর পরপরই ফায়ার সার্ভিসের টিম এবং সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ সাইফুজ্জামান (বিএফএম) জানান, হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের পশ্চিম পাশে গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। অ্যাম্বুলেন্সটির পাশেই বিভিন্ন আকারের বেশ কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার সংরক্ষিত ছিল। সিলিন্ডারগুলোর উপস্থিতির কারণে আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়া স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে ভিন্ন রূপ ধারণ করেছিল।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয়টি অনুধাবন করে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা পানির পরিবর্তে বিশেষ ‘ফোম’ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। ফোম ব্যবহারের ফলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে সম্পূর্ণ আগুন নেভানো সম্ভব হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে একটি অ্যাম্বুলেন্স, ভেতরে থাকা কিছু ব্যাটারি, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অ্যাম্বুলেন্স গাড়ির নাম্বার ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-৩০০ অ্যাম্বুলেন্সসহ এবং গ্যারেজ বিল্ডিংয়ের কাঠামোগত কিছু ক্ষতি দৃশ্যমান হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ব্যতিরেকে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর কি কারনে আগুন লেগেছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর