- রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল::
প্রলয়ংকারী আইলার ক্ষত যেন কিছুতেই শুকাচ্ছেনা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আইলা কবলিত প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৪ গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রায় ১২ কিঃ মিঃ রাস্তা। কাঁচা রাস্তায় হাঁটু অব্দি কাদা হওয়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। শিক্ষার্থী থেকে রোগী, কৃষক থেকে শ্রমিক সবাইকে পোহাতে হচ্ছে নিদারুণ ভোগান্তি।
আশাশুনির সর্ব দক্ষিণের ইউনিয়ন প্রতাপনগরের বেশিরভাগ রাস্তা গুলো এখনো কাঁচা। শুকনো মৌসুমেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাটির রাস্তা দিয়ে ভ্যানও ভালো ভাবে চলতে পারে না। মালামাল পরিবহনের জন্য এখনও ভরসা নদীপথ। প্রতাপনগর থেকে রুইয়ারবিল হয়ে সুভদ্রাকাটি ও চাকলা গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে চলাচলের প্রায় ১২ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্যের একমাত্র পথটি পাকাকরণের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ৪ গ্রামের মানুষ।
বর্ষাকালে রাস্তার মাটি গলে গিয়ে সৃষ্ট হওয়া হাঁটু কাদায় প্রতিদিন বেশী ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের। এছাড়া একই সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, নারী, শিশু সহ বয়োঃবৃদ্ধরা।
জানা গেছে, প্রতাপনগর ইউনিয়নের প্রতাপনগর থেকে রুইয়ারবিল,সুভদ্রাকাটি হয়ে চাকলা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। পাশাপাশি ৪ গ্রামের ভেতর ওই সড়ক সংশ্লিষ্ট আরও ৫টি গ্রামীণ কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার পর সেই খানাখন্দ কাদা ও পানিতে ভরে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা আব্দুল খালেক ও সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে হাতে জুতা নিয়ে খালি পায়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই না, দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকসহ নানা পেশার মানুষ। জরুরি রোগী পরিবহন, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা হেলালুজ্জামান তরফদার বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটি সহ প্রায় ৫টি গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ ও ইটের সোলিং গুলো সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ছোট ছোট শিশুদের খালি পায়ে কাদার মধ্যে হেঁটে স্কুলে যেতে দেখে খুব কষ্ট লাগে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ইউনিয়ন জামায়াত নেতা মাও. রিয়াছাত আলী বলেন, “এই সড়কটি প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতীক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্থায়ী সমাধানের জন্য ওই সড়কটি সহ সংশ্লিষ্ট ৫টি গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জোর দাবি করছি।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক। সড়কটির বেহাল অবস্থায় একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি সাপেক্ষে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঐ রাস্তাসহ সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলোও সংস্কার করা হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, প্রতাপনগর ইউনিয়ন আইলা সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। আমি সরজমিনে কয়েকবার গিয়েছি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ জন প্রতিনিধিদেরকে বলেছি যে সমস্ত সড়কগুলোর অবস্থা খুব ভয়াবহ সেগুলোর নোট আকারে আমাদের জানানোর জন্য। আশা করি ধারাবাহিক ভাবে সমস্ত বেহাল সড়ক পাকা করনের ব্যবস্থা করা হবে।