নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাস কক্ষে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর রাতের কোন এক সময় আদালত কক্ষের ভাঙা জানালা দিয়ে দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আদালত কক্ষের আসামির কাঠগড়া ও আইনজীবীদের বসার চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তবে সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির ঠিক পরিমান জানা যায়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়, বুধবার ভোরে স্থানীয় মসজিদের মুসল্লীরা ফযরের নামায পড়তে যাওয়ার সময় আদালতের এজলাস কক্ষের জানালা দিয়ে ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখে তাৎক্ষণিক আদালত সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়। এসময় মুসল্লীদের সহযোগীতায় আগুণ নেভাতে সক্ষম হয়।
আগুন লাগার খবর পেয়ে তাক্ষণিক উপজেলা প্রশাসন ও পরে খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন, জেলা পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিনি নিয়ন্ত্রণে আদালত চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শান্তিপুর্ন পরিবেশ বা স্বাভাবিক কর্মকার্ড বাঁধাগ্রস্ত করতে নাশকতার পরিকল্পনা স্বরুপ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান জানান। সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আদালতের এজলাশ কক্ষে আগুন লাগার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলায় আদালত প্রাঙ্গণে রাতে ডিউটিরত উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল ও পুলিশ কনস্টেবল মনিকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, আশপাশের সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, ভোর রাতে মোটরসাইকেলযোগে আইনজীবী ভবনের পাশে আসা চোখ-মুখ ঢাকা এক আরোহী ঘোরে-ফেরা করছে। প্রাথমিকভাবে তাকে সনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত পরিচয় দূর্বৃত্তরা এজলাসের সামনের ভাঙ্গা গ্লাস দিয়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে থাকতে পারে।