- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
খুলনার পাইকগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্ন মানের অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের খবর প্রকাশে টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। তাৎক্ষণিক তদন্তে নিম্ন মানের খাবার পরিবেশনের সত্যতা পেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর।
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে নিশ্চিত করেন এদপ্তর।
প্রসঙ্গত, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১৬৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল চাল রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ কৃত সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পাবনার ওসাকা নামক একটি সংস্থা বিদ্যালয় গুলোতে খাবার সরবরাহ করছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ শিক্ষকরা তাদের সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
ইতোমধ্যে মিড ডে মিল’র পরিবেশন করা খাদ্য তালিকায় বন রুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফর্টিফাইট বিস্কুট ও স্থানীয় মৌসুমী ফল সরবরাহের কথা থাকলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এখনো কোনদিন ফর্টিফাইট বিস্কুট সরবরাহ করেনি, পাশাপাশি মৌসুমী ফলের মধ্যে শুধুমাত্র সাগর কলা সরবরাহ করেছে। আবার কোথাও কোথাও পাকা কলার পরিবর্তে কাঁচা কলা সরবরাহ করেছে। এছাড়া স্কুল গুলোতে নিম্ন মানের খাবার সরবরাহ করা হয় এমন অহরহ অভিযোগ করেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পরিবেশক মাহাদী হাসানকে মৌখিক ভাবে বিদ্যালয় এবং শিক্ষা দপ্তর কর্তৃপক্ষ জানালেও কোন কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আশ্বস্ত করা হলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১১ এপ্রিল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের মাসিক সমন্বয় সভায় ডেকে নিয়ে পরিবেশক মাহাদী হাসানকে জোরালো ভাবে তাগিদ দেওয়া হয়। এরপরও মানসম্মত খাবার সরবরাহ না করায় শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।
এনিয়ে অনলাইন দৈনিক দীপ্তনিউজ২৪.কম সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় নিম্নমানের খাবার সরবরাহ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলে রীতিমত নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
শেষমেশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২২ এপ্রিল (বুধবার) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ।
প্রতিবেদনে নিম্ন মানের খাবার সরবরাহের প্রমানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানান, ছত্রাক যুক্ত বন রুটি, ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত নষ্ট ডিম এবং কাঁচা কলা সরবরাহ করেছে এমন অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করা হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মুক্ত করতে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান উপজেলা প্রশাসনের এ নির্বাহী কর্মকর্তা।