মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর ::
বর্ণাঢ্য পিতার রেখে যাওয়া শত কোটি টাকার সম্পত্তি থাকলেও বঞ্চিত রয়েছেন অসহায় মেয়েরা। ৮ বোনের সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে দুই ভাইয়ের সন্তানরা দখলে রেখেছেন। সম্পত্তির ভাগের অংশ চাইতে গেলে লাঞ্চিত হতে হয়েছে বোনদের। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ধামকি। কোন কুল কিনারা না পেয়ে অসহায়ত্ব নিয়ে জীবন যাপন করছেন তারা। ঘটনাটি সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া মহল্লার তিলখাজা রোড এলাকার।
সৈয়দপুরে বর্ণাঢ্য পিতার মেয়েরা এমন বৈষম্যের শিকারের খবরটি গোটা শহরে চাউর হয়। খবরটি চলে আসে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে।
পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান ও নাতিদের নিয়ে জরাজীর্ণ বারান্দায় বসে আছেন অসহায় দুই কন্যা মেহজাবীন ও সুফিয়া খাতুন। বাড়িতে রুম ও টয়লেট থাকলেও ভাইয়ের ছেলেরা সেসবে তালা দিয়ে রেখেছে। বাধ্য হয়ে বারান্দাতেই থাকছেন তারা। অথচ মেহজাবিন ও সুফিয়া খাতুনের বাবার রেখে যাওয়া বাড়িসহ রয়েছে তেলমিল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি। এসবের বর্তমান মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। কিন্তু সেই বাবার মেয়েদের ঠাই হয়েছে জরাজীর্ণ বারান্দায়।
সৈয়দপুর শহরের পরিচিত নতুন বাবুপাড়ার তিলখাজা রোডের মৃত সানাউল্লাহ ওয়েল মিল মালিক মৃত সানাউল্লাহর ২ ছেলে ৮ মেয়ে। অথচ ৮ বোনকেই বঞ্চিত করে রেখেছে দুই ভাই ও তাঁদের সন্তানেরা। প্রয়াত পিতার শত কোটির সম্পদ দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সানা উল্লাহর মেয়ে মেহজাবিন ও সুফিয়া।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলে দুই মেয়ে ও নাতি নাতনীদের দেওয়া তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে এসব তথ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেহজাবিন ও সুফিয়া।
তারা জানায়, প্রয়াত পিতার শত কোটি টাকার সম্পত্তি থাকার পরেও ভাইয়ের ছেলেরা তাঁদের (ফুফুদের) জরাজীর্ণ বারান্দায় ফেলে রেখেছে। নেই খাবার দাবার কিংবা প্রাকৃতিক কর্ম সাড়ার ব্যবস্থা। মেয়ে মহজাবিন জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পিতার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করেছে তার দুই ভাই মৃত সোবহান উল্লাহ ও রেজওয়ান উল্লাহর সন্তানেরা। এমন কি মা মেহেরবানী ক্ষুদার জ্বালায় এক মুঠো খাওয়ার জন্য পুত্রের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মায়ের কপালে জোটেনি খাবার। খাবারের বদলে ছেলেদের কাছ থেকে মিলেছে তিরস্কার। অথচ এই সৈয়দপুর শহরে তাদের প্রয়াত পিতা সানাউল্লাহ মিয়ার নামডাক আগে যেমন ছিল, তেমনি এখনও আছে। তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তির মূল্য এখন প্রায় শত কোটি টাকা বলে জানান নাতনি আফরোজ ইসরাত ও নাতি জামাই ইসতিয়াক। প্রভাব দেখিয়ে জবরদখল করে ভোগ দখলে রেখেছে ভাইয়ের সন্তানেরা। আর বঞ্চিত রয়েছে ৮ বোনের ওয়ারিশগন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এছাড়া থানা পুলিশ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিচার সালিশও তোয়াক্কা করছে না মৃত সোবহানুল্লাহ ও রেজানুল্লাহর সন্তানেরা। পিতা সানাউল্লাহর আরেক মেয়ে সুফিয়া খাতুন জানান, আমরা কিছুদিন থেকে বাবা মায়ের হাতে গড়া বাসায় অবস্থান করলেও ভাইয়ের ছেলে মাসুদ আলম লিটন ও ইমরানসহ অন্যান্যরা অশালীন আচরণ করছে। বাথরুমেও তালা দিয়েছে তারা। তারা বলেন, পিতার বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি থাকলেও আমার মা যেখানে কষ্টের যন্ত্রণা নিয়ে দুনিয়া ত্যাগ করেছে। তাই আমরা সে সব সম্পত্তির ন্যা্য্য হিস্যা চাই। অনেক সহ্য করেছি, আর নয়, এবার হিস্যা আদায় করে ছাড়বো আমরা। এজন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
জানা গেছে, সৈয়দপুরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার সানাউল্লাহ ওয়েল মিল এর মালিক মৃত সানাউল্লাহ। তিনি তেল মিল, বাড়ি গাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৭০ শতক জমি রেখে গেছেন। আছে সবকিছুই তাঁর প্রয়াত দুই পুত্রের ছেলেদের দখলে রয়েছে। এক্ষেত্রে বঞ্চিত রয়েছে ৮ বোন।
বোনদের অভিযোগ, আদালত,থানা পুলিশ ও স্থানীয় সালিশে তাঁর পিতা ওইসব সম্পত্তির পুরো অংশ যে তাদের ভাইদের লিখে দিয়েছেন এসবের স্বপক্ষে একটি কাগজও দেখাতে পারেননি তারা। এনিয়ে নিজেদের ন্যায্য হিস্যা চাইতে গেলে তাদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। এমনকি মৃত দুই ভাইয়ের সন্তানেরাসহ তাদের পরিবারের লোকজন বলে বেড়াচ্ছে আগামি ৪০/৫০ বছরেও তোরা কোন অংশ পাবি না। এমনটি জানিয়েছেন মৃত সানাউল্লাহর দুই মেয়ে মেহজাবিন ও সুফিয়া। এসব অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনও করেন তারা। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আরও উপস্থিত ছিলেন মৃত সানাউল্লাহর নাতনি সুলতানা পারভিন, আফরোজ ইশরাত, আরসি জেবিন, নাতি নাফিজ আলম, নাতনী জামাই ইশতিয়াক প্রমুখ।
এ বিষয়ে কথা হয় মৃত সোবহান উল্লাহর পুত্র মাসুদ আলম লিটনের সাথে। তিনি ফুফুদের দেওয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দাদা সানাউল্লাহ মিয়া তাঁর সকল সম্পত্তি তার দুই ছেলেকেই লিখে দিয়েছেন। কোন মেয়েকে কিছু লিখে না দেওয়ায় এসবের মালিক এখন আমরা। তবে এব বেশি তিনি কিছু বলতে চাননি।