1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ড-নাইজেরিয়ার সুযোগ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে নেমে ইতিহাস কেডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা ডুমুরিয়ায় বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে প্রধানমন্ত্রী নতুন ভাবনা শুরু করেছেন -কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু সুন্দরবনে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ শিকার ৪ জেলেসহ ২ নৌকা আটক সাতক্ষীরায় পলাশ-শরিফুলের বুশরা,এমআর মাল্টিপারপাসের পেটে গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা, অনেকেই আত্নগোপনে! সৈয়দপুরে অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলের অর্থ দিলেন বিলকিস ইসলাম এমপি সুন্দরবনের ভয়ংকর হয়ে উঠছে জাহাঙ্গীর রাজেন বাহিনীর সদস্যরা খুলনায় ‘গ্রেনেড বাবু’র বাড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক ১

সাতক্ষীরায় পলাশ-শরিফুলের বুশরা,এমআর মাল্টিপারপাসের পেটে গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা, অনেকেই আত্নগোপনে!

  • প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত
satkhira-১৬৭৪২

*হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা।

*অধিক মুনাফার লোভ ।

*শুরুতে নিয়মিত অর্থ প্রদান ।

*প্রতারণার ফাঁদে আমানত সংগ্রহ।

*জমি দেওয়ার নামে প্রতারণা ।

*টাকা না পেয়ে চিকিৎসা অভাবে গ্রাহকের মৃত্যু প্রহর।

  • আক্তারুল ইসলাম ::

এম,এল,এস নামক বুশরা মাল্টিপারপাস সমবায় সমিতি লিঃ এবং নিবন্ধন হীন এম আর বিজনেস গ্রুপ কোম্পানি মিলে সাতক্ষীরায় দু,টি প্রতিষ্ঠান গত ২৫ বছরে জেলা জুড়ে হাজার হাজার গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের পায়তারা চালাচ্ছে ।

সব ক্ষেত্রেই মূল উৎস ছিল লোভ। শুরুতেই লক্ষ টাকা রাখার বিপরীতে প্রতিমাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকা লাভ দেওয়া। সব ক্ষেত্রেই মূল উৎস ছিল লোভ, টাকা রাখলেই দ্বিগুন, অর্থ ফেরত পাওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব।

প্রথম দিকে বুশরা সমিতি ওয়াদা অনুযায়ী লভ্যাংশের টাকা দিয়ে বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাসে গ্রাহকের নিকট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেছে। টার্গেট পূরণ হওয়ায় পরে টাকা নিয়ে সটকে আত্মগোপনে আছে। লোভে পড়ে গ্রাহকরা ধান গাছে তক্তা বানানোর আশা করেছিল। যে কারণে অনেক প্রবাসী তাদের আয় করা টাকা, অনেকে জমি বিক্রির টাকা, এমনকি ব্যাংক রাখা টাকা উত্তোলন করে অধিক লোভ লাভের আশায় জমা রাখে। পরে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে লভ্যাংশ কমে লাখে ১৫ শ, টাকা করে দিতে দিতে বর্তমানে পুরাপুরি বন্ধ আছে। ফলে কিছু কিছু গ্রাহক জোরপূর্বক কৌশলে টাকা ফেরতের বদলে জমি লিখে নিতে পারলেও অধিকাংশ গ্রাহক কেবল বিক্ষোভ, প্রতিবাদ করাই সার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মৃত গোলাম রহমানের পুত্র এক সময়কার একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা ইকবাল কবির পলাশ এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ছনকা গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে অপর নেতা শরিফুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংকের চাকুরী ছেড়ে ২০০১ সালের দিকে বুশরা সমবায় সমিতি নামে অফিস খুলে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে। এখন সেই প্রতারণার ফাঁদে মানুষের জীবন মরণ সমস্যা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

বুশরা ,এম আরের আগে এই অঞ্চল থেকে আরডিপি, যুবক ,বর্ষা, পে-টু ক্লিক, নলতার রুপা, ডেসটিনি ছাড়াও নাম না জানা অনেক সমিতি ,কোম্পানি প্রতারণার জাল বিস্তার করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিলেও কিছুই হয়নি। বরং নিঃস্ব হয়ে গ্রাহকরা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, এমপির নিকট ধর্না দিয়ে বেড়াচ্ছে।

কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের গণপতি গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর পুত্র এহসানুর রহমান কালিগঞ্জ পোস্ট অফিসের (এম,এল,এম,এস) পিয়ন পদে চাকরি থেকে গত ১৭/৭/১৭ ইং তারিখে অবসর গ্রহণ করে।

বাড়ির পাশে প্রতিবেশী আত্মীয়, ভাগিনা বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম এবং খালাতো ভাই এম আর গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকবাল কবির পলাশের নজর পড়ে এহসানুরের উপর। মাসিক মোটা অংকের লাভের ফাঁদে ফেলে তার নিকট থেকে পেনশনের শেষ সম্বল ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এখন এহসানুর অসুস্থ প্যারালাইজড হয়ে টাকার অভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে ধুঁকে ধুঁকে মরতে বসলেও একটি টাকাও ফেরত দেয়নি এই চক্র। অথচ এই গ্রাহকের টাকায় সাতক্ষীরা ,খুলনা, ঢাকায় জমি, প্লট, কেনা, ফ্ল্যাটের ব্যবসা, বুশরা হাসপাতাল, বুশরা পলিটেকনিক্যাল কলেজ, বুশরা এগ্রো ফার্ম সহ খুলনায় আলিশান বাড়ি এবং দামি গাড়িতে ঘুরে বেড়ালেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখানে বুশরা গ্রুপের বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে সমবায়, আইনে বহুজাতিক নিবন্ধন থাকলেও এম আর গ্রুপের কোন নিবন্ধন ও কাগজপত্র নাই। বুশরা এবং এম আর গ্রুপ পৃথক পৃথক দেখালেও মূলত মিলে ঝিলে পরিচালনা পর্ষদ সাজানো হয়েছে। এ যেন দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ।

বুশরা গ্রুপের প্রশাসনিক জটিলতা মোকাবেলায় শেখ শরিফুল ইসলাম কে চেয়ারম্যান এবং শেখ ইকবাল কবির পলাশকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আব্দুর রব পরিচালক, আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালক, আনারুল ইসলাম পরিচালক ছাড়াও শরিফুল ইসলাম এবং ইকবাল কবির পলাশের স্ত্রী সানজিদা আক্তার ও আরিফা সুলতানা কে পরিচালক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। অথচ কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করা এমআর গ্রুপের কোন নিবন্ধিত কাগজ পত্রের খোঁজ মিলেনি।

মজিব নামে এক ভুক্তভোগী পেনশন এবং গাড়ি বিক্রির ৫০ লক্ষ টাকা মাসে ৭৫ হাজার টাকা লাভের আশায় এম আর গ্রুপে রেখে এখন টাকা ফেরত না পেয়ে টেনশনে ধুকে ধুকে মরলেও দেখার কেউ নেই।

গ্রাহক যাতে খুঁজে না পায় সেজন্য কালীগঞ্জ, নলতা, দেবহাটা, পারুলিয়া, সাতক্ষীরা সহ বিভিন্ন জায়গার অফিসে তালা ঝুললেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা জুড়ে এভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসলেও জেলা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাদের নজরে আসেনি কখনো। নগদ নারায়ণে অডিটে সবসময় পার পেয়ে গেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য বুশরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ শরিফুল ইসলাম ব্যবহৃত ০১৭১৫১৩৩৭৫১ নং যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

এরমধ্যে পরিচালক আব্দুর রব সাতক্ষীরার কুকরালি বলফিল্ডের পাশে বুশরার টাকায় প্লট কিনে আলিশান বাড়ি তৈরি করেছে।

এ ছাড়াও অপর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সড়কে প্লট কিনে আলিশান বাড়ি তৈরি করলেও গ্রাহকদের কোন সমস্যার সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ এবং ৪ এর সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নিকট জানালেও অন্যায় অপকর্মের দায় তার দল নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেও আজও অধরা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বুশরা ও এম আর গ্রুপের কর্ণধাররা।

বিষয়টি জেলা প্রশাসক জেলা পুলিশ সুপার সহ প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাতক্ষীরা বাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর