মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর::
সৈয়দপুরে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র- জনতার আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে গত ৪ আগস্ট বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী বদিউদপাড়ার তদদ্দি প্রামানিকের ছেলে নুর ইসলাম (৫৩) বাদী হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুর থানায় ওই মামলাটি করেন। মামলায় সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, দুই ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর কাউন্সিলর সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০/৩০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
এরআগে গত ৪ আগস্ট বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গত ৩১ আগস্ট ৯০ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০০/৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা করেন সৈয়দপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিফুর রহমান বাবলু। ওই দুটি মামলার পর থেকে এজাহার নামীয় আসামীসহ আওয়ামিলীগ ও দলটির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর থানায় দায়ের করা মামলার উল্লেখযোগ্য আসামীরা হলেন, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাসুদুর রহমান লেলিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, বোতলাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান জুন, বাঙ্গালীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ডা. মো. শাহাজাদা সরকার, পৌর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম রয়েল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজম আলী সরকার, নীলফামারী জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি জুয়েল সরকার, সাবেক ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান খান, কামারপুকুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান জিকো আহমেদ, প্রমুখ।
গত ৬ সেপ্টেম্বরের মামলার মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বেলা দুইটার সময় সৈয়দপুর শহরে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল চলছিল।
এসময় শান্তিপূর্ণ মিছিলটি শহরের পাঁচমাথা মোড় থেকে দিনাজপুর মোড় প্রদক্ষিণ করছিল। তখনি সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, বোতলাগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আজম আলী সরকারের নেতৃত্বে একদল বেআইনি জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাঁরালো ছোঁরা, লাঠি, লোহার রড, রামদা, চাইনিজ কুড়াল হাসুয়াসহ অন্যান্য দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করে। এ সময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আশেপাশের এলাকায় ঘন্টাব্যাপী সন্ত্রাসী কায়দায় তান্ডব চালায়। শহরের অনেক স্থাপনায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা করে পুরো শহরে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
এ সময় আসামীদের অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের এলোপাতারি গুলিতে নুর ইসলাম ও আলিমুল (২৭) সহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। তখনই হামলাকারীদের তান্ডবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার বিক্ষোভ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।
এরআগে গত ৩১ আগস্টের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট বিকেলে আওয়ামীলীগ ও দলটির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গোটা শহরের আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় তারা দলীয় কার্যালয়ে থাকা চেয়ার টেবিল, মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে। কার্যালয়ে তারা অগ্নিসংযোগেরও ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় পৌর বিএনপির পক্ষে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশিফুর রহমান বাবলু ৯০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০০/৪০০ জনকে আসামী করে ৩১ আগস্ট থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামীরা হলেন, সবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোখছেদুল মোমিন, সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক হিটলার চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, বাঙ্গালীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ডা. শাহাজাদা সরকার, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার টুটুল, সাধারণ সম্পাদক সজিব, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সিফাত সরকার, সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান শেখ শুভ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ সোহাগ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সারফারাজ মুন্না প্রমুখ।
মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আকতার হোসেন বলেন,
অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মামলার পর থেকে আসামীরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে মামলা দুটির কয়েকজন আসামী বলেছেন তাদেরকে অহেতুক ফাঁসানো হয়েছে। বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরসহ কোন সন্ত্রাসী কাজের সাথে তারা জড়িত নন।