ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি::
খুলনার ডুমুরিয়ায় আটলিয়া ঘেংরাইল নদী খননকাজ বন্ধ করে স্থানীয় রুপা ব্রিকস মালিক আমিনুর রহমান তার ইটভাটায় যাতায়াতর জন্য নদীর উপর নির্মাণাধীন ছোট ব্রিজের নির্মাণ কাজ ফের শুরু করেছেন। এর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আশিষ মোমতাজ তাকে আটকের পর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও ইউএনও মুহাম্মদ আল-আমিন সেখানে পুনরায় ব্রীজ নির্মাণকাজ চালু না করতে ভাটা মালিককে নির্দেশ দেন। তবে ভাটা মালিক প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের নদী কননকাজ বন্ধ করে সেখানে ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। সর্বশেষ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত, এই নদী পথে বিভিন্ন নৌকায় করে মালামাল বহন করে থাকে । নাব্যতা হ্রাসে এলকার সুষ্ঠু পানি সরবরাহ পথ বন্ধের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে পড়ে এর যাতায়াত ব্যবস্থা। বিসস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এর খননকাজ শুরু করেন।
তবে ভূক্তভোগী ৪৫জন স্বাক্ষরিত এক অভিযোগ পত্রে জানানো হয় সেখানকার রুপা ব্রীকসের মালিক আমিনুর রহমান তার ভাটার মালামাল সুষ্ঠু সরবরাহসহ নিজ সুবিধায় নদীর খননকাজ বন্ধ রেখে নিজ উদ্যোগে নদীর ঐস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তবে অপরিকল্পিতভাবে নদীর মাঝে ব্রীজ নির্মান করায় অতিদ্রুত পুনরায় সেখানে পলিভরাটের পাশাপাশি সুষ্ঠু পানি সরবরাহের পথ বন্ধ ও নদীর খননকাজ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে মর্ম্মে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশসনের উদ্যোগে জরিমানাসহ পুনরায় সেখানে ব্রীজ নির্মান কাজ শুরু না করতে নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে ফের ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা। অপরিকল্পিতভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মানাধীন ব্রীজের সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধের জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকার বাসিন্দা বিষ্টু পদ মন্ডল, আজিজ গাজী, শান্তনু মন্ডল, জগদীষচন্দ্র সরকার, মিলনট সরদার, শিশির রঞ্জন, দেবেন্দ্র নাথ বাছার, দুল চন্দ্র, মিলন কুমার মন্ডল, তাপস মন্ল, রোকন শেখ, ইমাম শেখ, শিশির সরদার, মধুসূদন মন্ডল, গৌতম কুমার মন্ডল, অমলকৃষ্ণ মন্ডল, নির্মল কুমার মন্ডল, তুষার সরদার, রাসেল সানা, উত্তাম মন্ডল, দীপঙ্কর সরকার ,নির্মল কান্তি সরদার, কর্ণধর মন্ডল, স্বপন মন্ডল, বনমালী সরদার, মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল, সমীর তরফদার, বিজয় তরফদার, অমর তরফদার, বিধান মন্ডল সহ অন্যান্যরা এ লিখিত অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেন।
অভিযোগপত্রে তারা বলেন, নদীর দু’পারে মাটিভরাট করে নদীর প্রসারতা সংকুচিত করে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে নদীর মাঝে ব্রীজ করায় লাভের চেয়ে নদী স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এব্যাপারে যথাযথ আইনগতভাবে পদক্ষে গ্রহনের জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।