- উত্তম চক্রবর্তী,যশোর।।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বিকালে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টুর সার্বিক পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ মোতালেব গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান শাহীন সহ উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং দেশের উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বাস্তবমুখী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
বক্তারা বলেন, খাল খননের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হয় এবং কৃষকরা সহজে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করতে সক্ষম হন।
এর ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। তারা আরও উল্লেখ করেন, কৃষিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান বিদেশ থেকে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানির ব্যবস্থা করেন। বিশেষ করে চীন থেকে সেচের কাজে ব্যবহৃত পাম্প ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমদানির ফলে দেশের কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা লাভ করেন এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন গতি সঞ্চার হয়।
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন যে গ্রামের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য তিনি কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তাঁর এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং তিনি একজন উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন। যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও উন্নয়ন দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর কৃষিবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী চিন্তাধারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তাঁর নেতৃত্বে কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম এবং উন্নয়ন ভাবনা আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অব্যাহত উন্নয়ন কামনা করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন।