- আব্দুল মান্নান, শার্শা (যশোর) থেকে::
বেনাপোলের সীমান—বর্তী উপজেলা শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচ ভুলাট গ্রাম এবং পুটখালী ইউনিয়নের খলসি, রাজগঞ্জ গ্রামের বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের একমাত্র আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ পানি পানের সরকারী বাওড়টি আজ কয়েকজন জবর দখলকারী দখল করে মাছ চাষ করায় তিনটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছে না।
এলাকাবাসীর দাবি উঠেছে সরকারী এ বাওড়টি কয়েকজন জবরদখল কারীদের হাত থেকে মুক্ত করে জনস্বর্থে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষনার দাবী উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল ছিলো আর্সেনিক প্রবণ এলাকা।

এ এলাকায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা দিন দিন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছিলো। এ সময় সরকারের সহযোগিতায় বিদেশী একটি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ইছামতি নদী থেকে আসা পুটখালী বাওড়ের সাথে সংযোগ হয়ে প্রবাহিত হয় খলসি, পাঁচভুলাট এবং রাজগঞ্জ বাওড়। এ সময় পুটখালী বাওড়ের শেষ সীমানায় ভেড়ি বাধ দিয়ে ৩ গ্রামের মানুষের জন্য পুটখালী বাওড়ের শেষ অংশে ৩ গ্রামের মানুষের জন্য ভেড়ি বাধ দিয়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেন সংস্থাটি।
আর্সেনিক প্রবণ এই তিনটি গ্রামকে পৃথক করে পুটখালী বাওড়ের একাংশ বাধ দিয়ে পাঁচ ভুলাট, রাজগঞ্জ ও খলসির বাওড়ের অংশ থেকে বিশুদ্ধ পানি পানের উপযোগী করে তোলে এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক সংস্থাটি। এ সময় ভেড়ি বাধের পূর্ব পাশে একটি পানির ট্যাংকি স্থাপন করা হয়। বাওড় থেকে পাওয়ার পান্ট মেশিনের মাধ্যমে ট্যাংকিতে পানি তুলে আর্সেনিক মুক্ত করে ৩টি গ্রামের মানুষের মাঝে পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ীতে পানি সকাল সন্ধ্যা সরবরাহ করা হয়। এ সময় থেকেই নিষিদ্ধ করা হয় বাওড়ের এ অংশে মাছ চাষ। বলা হয় বিশুদ্ধ পানির জন্য উন্মুক্ত থাকবে বাওড়। কিন্তু এ তিন গ্রামের কয়েকজন ভুমি দস্যু ও দখল দার অবৈধ অস্ত্র ও বোমার ভয় দেখিয়ে সরকারী এ বাওড়টি জবর দখল করে জোরপুর্বক মাছ চাষ করছে।
এ পানিতে রাতের আধারে তার দিচ্ছে সার, রাসায়নিক দ্রব্য, জৈব সার, কীট নাষক ও পচা গোবর। যা মানব দেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। পাইপ লাইনে পানি ব্যবহারকারী পরিবারগুলো জানান সন্ত্রাসীরা জোর করে সরকারী এ বাওড়ে মাছ চাষ করায় দিন দিন এ বাওড়ের পানি পান ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। আস্তে আস্তে আবারো আর্সেনিকের মত কঠিন রোগ এ এলাকার মানুষের মাঝে জেকে বসবে নিশ্চিত। তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এ বাওড়ের বিশুদ্ধ পানি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন এবং ৩ গ্রামের তিনটি সেবা মুলক সমিতির মাধ্যমে এটি সংরক্ষনের জন্য মাসিক ৫ টাকা হারে রশীদের মাধ্যমে পাইপ লাইন গ্রাহকরা টাকা পরিশোধ করেন। আদায়কৃত এ টাকা ব্যয় হয় বিদ্যুৎ বিল, পাইপ লাইনের কোন সমস্যা হলো তা ব্যয় করা হয়।

এলাকাবাসীর দাবী তিন গ্রামের মাত্র কয়েকজন দখলদার ভুমিদস্যুর হাত থেকে সরকারী এ বাওড়টি জবর দখলমুক্ত করে
উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষনা। তানা হলে আবারো এই ৩ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হবে। আক্রান— হবে আর্সেনিকের মত ভয়াবহ রোগে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার পলাশ বালা জানান পুটখালী বাওড়ের এক অংশে ভেড়ি বাঁধ দিয়ে ৩টি গ্রামের মানুষের পানি পানের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এ অংশে মাছ চাষ সম্পুন্ন নিষিদ্ধ কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাত থেকে এটি মুক্ত করা অতি জরুরী। শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে ওয়াহিদ এক স্বাক্ষাতকারে জানান সরকারী জলাশয় থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশিষ্ট প্রশাসন কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবী এ বাওড়টি কয়েকজন সন্ত্রাসী, দখলদার দস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষনা। যেখানে থাকবে না কোন মাছ চাষ। জনস্বার্থে সরকারের পক্ষে এমন ঘোষনায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ থাকবে নিরাপদ এবং পান করবে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি গড়বে আর্সেনিক মুক্ত জীবন ।