- মোহাঃ হুমায়ুন কবির::
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
একদিকে সুন্দরবনে মাছের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বননির্ভর জেলে ও কাঁকড়া আহরণকারীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, ভ্যানচালক ও অন্যান্য খেটে খাওয়া মানুষও কাজ করতে পারছেন না। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপজেলার হাজারো নিম্ন আয়ের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকার বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি জমে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
কাঁচা সড়কগুলো কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।
উপকূলীয় এই উপজেলার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিভিন্ন স্থানে থাকা অধিকাংশ স্লুইসগেট জরাজীর্ণ ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় আধুনিক স্লুইসগেটের অভাব এবং খাল-নদী যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সামান্য ভারী বর্ষণেই বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। কয়েক দিন ধরে কোনো কাজ করতে পারছি না। ঘরে ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। এলাকায় পানি জমে থাকলেও তা দ্রুত নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসগেটগুলো সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল হুদা বলেন, কয়রা একটি দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় উপজেলা। এখানে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ স্লুইসগেট ও অপর্যাপ্ত খাল সংস্কারের কারণে মানুষকে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও প্রকট হবে।
স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় জনপদের বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত আধুনিক স্লুইসগেট নির্মাণ, পুরোনো স্লুইসগেট সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন হয়ে পড়া বনজীবী, জেলে ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালুরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। অথচ দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না কয়রাবাসীর। স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে উপকূলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।