- শেখ দীন মাহমুদ::
পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের পুটিমারীস্থ উলুবুনিয়া নদীর ভরাটি জমিসহ ভিপি সম্পত্তি দখল করে বিলাসবহুল বাগান বাড়ি নির্মাণসহ সেখানকার দখল মহোৎসব নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশে টনক নড়েছে স্থানীয় ইউপি সদস্য কুমারেশ মন্ডল ও তার ভাই প্রশান্ত মন্ডলের।
বিষয়টিকে ইউপি সদস্য কুমারেশ মন্ডলের জনপ্রিয়তার বিরুদ্ধে নিছক অপপ্রচার বলে দাবি করে তিনি ডিসিআরকৃত সম্পত্তির উপর ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন বলে দাবি করেছেন।
যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, উলুবুনিয়া নদীর পাশে এসএ ৪২ খতিয়ানে ১ থেকে ১৬ দাগে ৫২ একর সম্পত্তি ভিপি সম্পত্তি। যা বর্তমানে বিআরএস ১/১ খতিয়ানে অন্তর্ভূক্ত। এসব সম্পত্তি এলাকার ৮/১০ জনের নামে যথাক্রমে আমানুর রহমানের নামে ৫ একর, গণি সরদারের নামে ৫ একর, রনজিৎ দে’র ৫ একর, আকু গংয়ের ১১ একর, মিরাজুল ইসলাম, ইকবাল গংয়ের নামে ১৭ একর, সুদীপ্তর ৩ একর, লুৎফরের ১.৫০ একর ও প্রশান্তর নামে ০.৬৬ একর বলে উল্লেখ করা হয়। এসব জমিতে অনেকেই নিজেরা মাছ চাষ, আবার অনেকে মাছ চাষের জন্য ডিড প্রদানসহ কেউ কেউ বসত বাড়ি নির্মাণপূর্বক সেখানে বসবাস করে আসছেন। যার মধ্যে ডিসআর প্রাপ্ত প্রশান্ত মন্ডলের আপন ভাই কুমারেশ মন্ডল। স্থানীয় পুটিমারী গ্রামের কৃষ্ণপদ মন্ডলের তারা ৪ ছেলে সেখানে দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন।
যদিও আত্নপক্ষ সমর্থন করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কুমারেশ ও তার ভাই খাস খতিয়ানের কোন দাগে এবং মিস কেস নং উল্লেখ করেননি।
এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখার সহকারী কমিশনার মো: তাহমিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গত ৬/১২/২০ ইং তারিখের স্মারক নং-০৫. ৪৪. ৪৭০০. ০২৯.১০.২০-৩৫৬(৬) পত্রে পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার সহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত ঐ পত্রে ৬১৬/৭৪-৭৫ ইজারা কেসের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন ও আইনগত মতামত দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, আবেদনকারী তাপস কান্তি বসু গং ও পরমেশ চন্দ্র দত্ত সাং-সোনাতনকাটি, গদাইপুর, পাইকগাছা, খুলনা পুটিমারী মৌজার ৪২ নং খতিয়ানের ১, ২, ৩, ১২, ১৩, ১৪,১৫, ১৬ নং দাগের ১৩.৫৮ একর জমি অর্পিত নয়। তদমর্মে খুলনা জেলা জজ ৪র্থ আদালত, খুলনা এর ২০৭/৯৪ নম্বর রায়,ডিক্রী, দেওয়ানী ৬৪৪/২০৮ মামলার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ, ৩১৩৫/২০১২ নং আদেশ মোতাবেক দরখাস্তকারীদের স্বত্ত্ব দখলীয় তফশীল বর্ণিত জমিতে ৬১৬/৭৪-৭৫ ইজারা কেসের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করার আবেদনের বিষয়টি দখল ভিত্তিক প্রতিবেদন দাখিল করতে পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিজ্ঞ কৌশুলেিক আইনগত মতামত দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
কুমারেশ মন্ডল এসব ব্যাপারে কোন তথ্য উপাথ্য উপস্থাপন করেননি। এছাড়া সরকারি গেজেট অনুযায়ী উলুবুনিয়া নদীর আয়তন ৫৫.৮৯ একর। ইতোপূর্বে মাছ চাষের জন্য সরকারিভাবে মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিকে ইজারা দেওয়া হত। এরপর এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সরকার নদীটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন।
এছাড়া সর্বশেষ গত ২০২১ সালে মৎস্য অধিদপ্তরের তত্তাবধায়নে নদীর উৎসমুখের একাংশে খননকাজও পরিচালনা করে। মূলত এ খননকার্যক্রম পরিচালিত হয় নদীর গতিপথকে বাঁধাগ্রস্থ করে।
এখন দেখার বিষয়, সরকারিভাবে নদীর আয়তন কত একর এবং এর সীমাণা কোথায়? এছাড়া ৪২ খতিয়ানে প্রকৃত পক্ষে ভিপি খতিয়ানের পরিমাণ কত একর? ৬/১২/২০ ইং তারিখের ০৫. ৪৪. ৪৭০০. ০২৯.১০.২০-৩৫৬(৬) স্মারকের প্রতিবেদন কি ছিল?
সচেতন এলাকাবাসী এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।