নিজস্ব প্রতিবেদক, পাইকগাছা::
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর চরভরাটি জমির অব্যাহত দখল প্রচেষ্টার ঘটনায় অবশেষে উপজেলা প্রশাসন দখলদারদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে পৌর সভার অপরপ্রান্তে জেগে উঠা চরে স্কেভেটর মেশিনে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ দেয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরাফত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের দখল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুউদ্দীন ফিরোজ বুলু, পৌরমেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মান্নান গাজীসহ অন্যান্যরা।
সুন্দরবন উপকূলীয় এক সময়ের খরস্রোতা শিবসা ক্রমান্বয়ে পলিভরাট হয়ে হাজার হাজার বিঘা জমি জেগে উঠেছে। নৌ চলাচলও বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন। এক সময়ের জীবিকার প্রাণ শিবসার যৌবন ফেরাতে যখন আন্দোলন শুরু হয়েছে ঠিক সেই মূহুর্তে গত কয়েক বছর ধরে জেগে ওঠা চরের দু’পারে অদৃশ্য ইশারায় শুরু হয়েছে অবৈধ দখল কার্যক্রম।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় কতিপয় প্রভাবশালীদের পরোক্ষ ছত্রছায়ায় দখলদাররা নদীর চরভরাটি বিস্তীর্ণ জমিতে বাঁধ দিয়ে দখল শুরু করছেন। প্রশাসনের চোখ এড়াতে বেশ কিছুদিন ধরে রাত-দিন স্কেভেটর মেশিন দিয়ে ভরাটি জমির মাটি কর্তন করে নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এদিকে প্রশাসনের অভিযানের সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, ভিলেজ পাইকগাছার জনৈক মোহর আলী, লিটন, আমিনউদ্দীন, প্রভাষ, গোপাল, শহীদসহ অনেকে বাঁধ দিয়ে চরভরাটি জমির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে এরআগে মূলত পৌরসভায় শহর রক্ষা বাঁধের নামে চরভরাটি জমিতে বাঁধ দিলে নদীর দু’পারে এভাবে সরকারী জমির দখল কার্যক্রম বেগবান হয়।
এ ব্যাপারে ভিলেজ পাইকগাছার উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মোহর আলী, প্রভাষ গোপাল হাজরাসহ অনেকে বলেন, ইতোপূর্বে আমাদের প্রৈত্রিক জমা-জমি নদী ভাঙনের স্বীকার হয়ে বহু পরিবার ভিটেমাটি সহ ঘরবাড়ী হারাতে হয়েছে। বহুদিন পর সেই ভাঙনের জমি চরভরাটি হলে অন্যদের মতো তারাও বাঁধ-বন্ধি করে দখল নিচ্ছেন। তবে তারা স্বীকার করেন পৌরসভাসহ সকলের দেয়া বাঁধ-বন্ধী উচ্ছেদ হলে তাদেরও সরে আসতে আপত্তি থাকবে না।
এ সম্পর্কে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরাফাত হোসেন জানান, নদীর স্বাভাবিক জোয়ারের পানি যে পর্যন্ত উঠবে সেই পর্যন্ত নদী বলে বিবেচিত হবে। এখানে চরভরাটি জমি নিজেদের দাবির কোন সুযোগ নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, নদীর চরভরাটি সরকারী জমি থেকে পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ বাধ-বন্ধি উচ্ছেদ করা হবে।