- শেখ মাহতাব হোসেন::
শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০২৬ ডুমুরিয়া (খুলনা)
৯ হতে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ৪ দিনের অতিবৃষ্টিতে খুলনা জেলায় মাছ চাষ ও সবজি চাষে প্রায় ১১ কোটি টাকা ক্ষতি হতেছে।
খুলনা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা এর মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ায় জেলার মৎস্য চাষ ও কৃষিখাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকায়। আকস্মিক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে শত শত ঘের ও ফসলি জমি, যা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে স্থানীয় চাষিদের।
মাছঃ
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা এর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান খুলনা জেলার ৯টি থানায় ৪ দিনের অতি বৃষ্টিতে মোট ৮ টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।এর মধ্যে সব থেকে বেশি দিঘলিয়াতে হয়েছে ৪ টি। মোট খতিগ্রস্থ পুকুর/দিঘি/ ঘেরের সংখা ১৪৬২ টি।
তিনি জানান এই চার দিনে মোট ক্ষতির আর্থিক হিসাব প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা, যার ৬০ শতাংশই চিংড়ী চাষিদের ক্ষতির পরিমান।
খুলনা বিভাগের চিংড়ি চাষের কেন্দ্র স্থল ডুমুরিয়াতে প্রায় ৬৫০ টি ঘেরে মাছ চাষিদের ক্ষতি হয়েছে সব থেকে বেশি যার পরিমান ৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে সাদা মাছ চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ও চিংড়ি চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
মোঃ বদরুজ্জামান আরো জানান, অবকাঠামো গত ক্ষতির পরিমান প্রায় ৬ লক্ষ টাকা এর মত। টানা বৃষ্টিতে ও নদীর পানি বেশি থাকায় এমনটি হয়েছে।

ডুমুরিয়ার পুরষ্কারপ্রাপ্ত চিংড়ি চাষি মাহতাব হোসেন জানান, এতো বৃষ্টি হবে চিংড়ি চাষিরা কেউ বুজতে পারিনি, আর এ মুহুর্তে আমরা কেবল পোনা চাষ শুরু করছি যা চলবে আরো ৬ মাস। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটু সময় লাগবে। তবে আরো বৃষ্টি হলে ক্ষয়খতির পরিমাণ বেশি হতে পারে বলেও তিনি জনান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মেদ মিনা এর সাথে কথা হলে তিনি জানান খুলনা জেলায় এ মুহুর্তে আউশ ও রোপা আমন ধানের চাষ হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি, তরমুজ, মরিচ, পান ও ধইঞ্চার ও চাষের তথ্য আছে তাদের কাছে।
তিনি জানান, জেলা জুড়ে ৪ দিনের অতিবৃষ্টিতে প্রায় ১ কোটি টাকায় ক্ষতি হয়েছে ৯ টি উপজেলায়। এর মধ্যে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তরমুজ চাষিরা, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। ধান ও সবজি মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৩১ লক্ষ টাকা। জেলা জুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১৩৪০ জন। ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমান ৩৩ হেক্টর।
খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল এই ৪ জেলা মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বলেও তিনি জানান। এই ৪ টি জেলা মিলিয়ে আউশ চাষিরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি যোগ করেন যার পরিমাণ ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, এর পর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সম্মিলিত সবজি চাষিরা। মোট খতিগ্রস্থ কৃষকের সংখা ৭৭৩৬ জন। ও মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমান ১৮০ হেক্টর।
অনেক চাষিরা জানান, তারা এই বৃষ্টির পানি না নামা পর্যন্ত বীজতলা প্রস্তুত করতে পারছেন না, যার ফলে কিছু সবজি চাষ ব্যহত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসঃ
খুলনা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জুলাইয়ে (১৪ তারিখ পর্যন্ত) খুলনায় জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪২৪ মিমি, যা গত বছর ৩৬০ মিমি ছিল (১৪ জুলাই পর্যন্ত)।
তিনি জানান ১৬-১৭ তারিখ থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরেকটু বাড়বে। সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে ৮-১২ তারিখের মত বৃষ্টিপাত হবেনা। এই ৪ দিন ছিল একটি নিম্নচাপ।
আগাম প্রস্তুতি না নেওয়া হলে সামনের দিনগুলোতে ক্ষয় ক্ষতি আরো বাড়বে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা