- শেখ দীন মাহমুদ::
অবশেষে ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুকেই আলীঙ্গন করলে দূবৃত্তদের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত পাইকগাছার কপিলমুনির সলুয়ার বয়োবৃদ্ধা সুমিত্রা ঘোষ (৭০)।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এর আগে ২৪জুন রাতে অজ্ঞাত পরিচয় দূর্বৃত্তরা তার বাড়িতে ঢুকে তার উপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ধারণা করা হয়, অজ্ঞাত পরিচয় দূর্বৃত্তরা গরু বিক্রির টাকা চুরির উদ্দেশ্যে ঐ বাড়িতে ঢুকে তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
ঘটনার পর সুমিত্রা দেবীর ছেলে নারায়ন ঘোষ জানিয়েছিলেন, হামলায় তার মায়ের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর যখম হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ ও পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ মার্চ রাতে একই পরিবারের বড় ছেলে নারায়ন ঘোষের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ওই সময় বাড়িতে ঢ়ুকে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। এরপর গত ২৪ জুন রাতে গরু বিক্রির টাকা সুমিত্রা দেবীর কাছে থাকতে পারে এমন ধারণা থেকে বাড়িতে ঢুকে তার উপর হামলা চালায় অজ্ঞাত পরিচয় ডাকাত দল।

সর্বশেষ ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, থানা পুলিশ ঘটনার তদন্তে কাজ করছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যু হল সুমিত্রার। ধারাবাহিক ঘটনায় পরিবারটিতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
প্রকৃতপক্ষে প্রথম ঘটনার সাথে দ্বিতীয় ঘটনার কোন প্রকার সম্পর্ক রয়েছে কিনা কিংবা সর্বশেষ ঘটনায় সুমিত্রা রানী ঘোষের উপর বর্বরোচিত হামলায় পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তবে কি হামলাকারীদের কাউকে রাতে চিনে পেলেন তিনি? যার কারণে জীবন দিতে হয় তাকে? তবে ধারাবাহিক ঘটনার কোনটারই তদন্ত সম্পন্ন কিংবা সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কাউকে আটক করতে পারেনি থানা পুলিশ!