- নিজস্ব প্রতিবেদক ::
পাইকগাছার কাশিমনগরে আপন চাচার বিরুদ্ধে মা’ হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জীবননাশের হুমকির পাশাপাশি হয়রাণিমূলক মামলার খড়গ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংবাদ সম্মেলনের পর আজ শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।
এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ হাতে ঝাড়ু,জুতা ও মামলার প্রধান আসামী মহিদুল গাজীর উপযুক্ত বিচার দাবিতে লেখা প্লাকার্ডসহ অংশ গ্রহন করেন। এসময় স্থানীয় সমাজ সেবক এম বুলবুল আহমেদ, আবু মুছা গাজী, মোস্তফা গাজী, সেকেন্দার আলীসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।
এর আগে গত ১৫ জুন দুপুরে নিহত রাশিদার দু’নাবালক সন্তান রিফাত গাজী (২০) ও তাসমিরা খাতুন (১৪) তাদের মা’ হত্যার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে পুণ:ময়না তদন্ত, জামিনে বেরিয়ে প্রধান আসামী চাচা মহিদুল গাজী কতৃক জীবননাশের হুমকির প্রতিবাদ ও তার দায়ের করা হয়রাণিমূলক মামলা হতে পরিত্রাণের দাবি করা হয়। আজ ফের একই দাবিতে অব্যাহত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এতিম ছেলে-মেয়েদের পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর ২৫’ সকালে উপজেলার কপিলমনির কাশিমনগর গ্রামের মৃত এনামুল গাজীর স্ত্রী রাশিদা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে নির্যাতনের পর হত্যা শেষে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তার লাশ নিজ বাড়ির লিচু গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সন্দেহে এদিন রাশিদার আপন দেবর মহিদুল গাজীকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় রাশিদার ছেলে রিফাত গাজী বাদী হয়ে মহিদুলকে প্রধান করে অজ্ঞাত পরিচয় আরোও ১/২ জনকে আসামী করে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-৭।

এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিভ মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ড. রনি কুমার ব্রহ্ম’র প্রস্তুতকৃত ময়না তদন্ত রিপোর্টে রাশিদা বেগম আত্নহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করেন। এরপর মামলার আইও কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: মনিরুল ইসলাম গত ৩১ জানুয়ারী ২৬’ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে রাশিদাকে হত্যা নয় তাকে আত্নহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে মর্ম্মে উল্লেখ করে আসামী মহিদুলকে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে ৩০৬ ধারা আরোপ করেন।

এরপর গত ২১/৪/২৬ তারিখে এ মামলায় প্রধান আসামী মৃত এছেম গাজীর ছেলে মহিদুল গাজী জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নিতে বাদী নিহতের ছেলে রিফাত, স্বাক্ষী মেয়ে তাসমিরাসহ অন্যান্যদের নানাবিধ হুমকি-ধামকির পাশাপাশি মামলার বাদী রিফাতকে প্রধান করে ৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত পরিচয় আরোও ১৫/১৬ কে আসামী করে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি লুটপাটের মামলা করেন। যার নং সি,আর-৪০৪/২৬।
এঘটনায় রিফাত নিজের ও তার বোনসহ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে পাইকগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং-৫৪০।
এ ঘটনায় সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে রিফাত ও তার বোন তাসমিরাসহ অন্যান্যরা তাদের মাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে পূণ:ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।