নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিনদিনের শোক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) খুলনার খালিশপুর বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় খালিশপুর থানা পুলিশ।
তার আগে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গতকাল বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
স্থানীয়দের দাবি, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের শোক কর্মসূচির ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে বুধবার ছিল সাধারণ ছুটি। সারা দেশের সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তিনি হেয়ালী করে বিদ্যালয়টি খোলা রাখেন। যে কারণে স্কুলের কিছু শিক্ষক ও সাধারণ অভিভাবকরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। বিষয়টি গতকাল বুধবার জানাজানি হলেও তাকে কিছুই বলা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোয় অভিভাবকসহ স্থানীয়রা সংঘবদ্ধভাবে স্কুল চত্বরে প্রবেশ করে একপর্যায়ে তাকে তার কক্ষেই অবরুদ্ধ করে রাখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা মহানগর সভাপতি ছিলেন। সাবেক এমপি মন্নুজান সুফিয়ান এবং সাবেক এমপি এসএম কামালের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মেনর অভিযোগও রয়েছে।
সর্বশেষ তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক এবং সাধারণ ছুটির দিনেও শিক্ষকদের স্কুলে আসতে বাধ্য করে। তার এই স্বেচ্ছাচারিতায় শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। এরই মধ্যে ছুটির দিনে স্কুলে আসতে বাধ্য করায় শিক্ষকদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিওতে একজন শিক্ষক কান্নারত অবস্থায় বক্তৃতা দিচ্ছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
মূলত সেটি দেখেই এলাকাবাসী, অভিভাবকরা তার কাছে বৃহস্পতিবার সে বিষয়ে জানতে চাইলে এক পর্যায়ে তার আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌছে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে থানায় নেয়।
সর্বশেষ ঘটনার খবরে থানা, জেলা ও আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়েে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বস্ত করেন। এসময় শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর পৃথক দু’টি লিখিত অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে প্রদান করা হয়।
এব্যাপারে খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তৌহিদুজ্জামান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, আজ বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি স্কুলে বই বিতরণের কথা। তাই কাজ এগিয়ে আনার জন্য বুধবার বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে ডেকে কিছু কার্যক্রম এগিয়ে রেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা তাকে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। সর্বশেষ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছেন।