1. sheikhnadir81@gmail.com : admin :
  2. tapon.tala@gmail.com : Tapon Chakraborty :
  3. bdtiu7t93g@outlook.com : wpp9nopr :
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
কয়রায় মাস ব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে জামায়াতের দাওয়াতী সমাবেশ নারী-শিশুদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করার প্রত্যয় এমপি বিলকিস ইসলাম’র  কয়রায় ৩৮ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি আটক নেপালের বন্যা: সীমান্ত বিহীন জলবায়ু সংকট কপিলমুনিতে কবরস্থানের জায়গা দখল করে ইমারত নির্মাণ, প্রতিবাদে মানববন্ধন আজ শুভ জন্মাষ্টমী বাস চলাচলে বৈষম্য দুর করতে নীলফামারী মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ৭ দিনের আল্টিমেটাম কয়রায় ৪রশতাধিক অসহায় পরিবারের মাঝে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে পানির ট্যাংকি বিতরণ কয়রায় সিএনআরএসের উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প শেয়ারিং কর্মশালা সৈয়দপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের সংবর্ধনা প্রদান

ডুমুরিয়ায় অল্প পুঁজিতে ড্রাগন চাষে সফলতার হাতছানি

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
  • ১২৩ বার পঠিত

শেখ মাহতাব হোসেন, (ডুমুরিয়া) খুলনা::

বিদেশী সুস্বাদু জনপ্রিয় ড্রাগন ফল এখন চাষ হচ্ছে খুলনার ডুমুরিয়ায়। স্বল্প সময়ে অল্প পুঁজিতে ড্রাগন ফল চাষ করে বেকার যুবকদের কোটিপতি হওয়ার ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে শুরু উদ্যোক্তাদের পক্ষে।

ভিয়েতনামের জাতীয় ফল ড্রাগন। মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ড্রাগনে স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং প্রসাধনী গুণ থাকায় দিনদিন বাংলাদেশে এর চাহিদা বাড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে দেশে। আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশে খুলনা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে বিদেশি ক্যাকটাস প্রজাতীয় এ ফলের।

খুলনা শহর থেকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ধরে প্রায় ১৪ কিলোমিটার গেলেই ডুমুরিয়া উপজেলা। উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পথ গিয়ে শরাফপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে গেলেই চোখ পড়ে কৃষি উদ্যোক্তা বিএম শাহিনুর রহমানের ড্রাগন বাগান।

দূর থেকে দেখলে মনে হয় স্ব-যতেœ ক্যাকটাসের আবাদ করেছেন কেউ। একটু পাশে যেতেই চোখ ধাঁধিয়ে নয়নাভিরাম লাল ফলের সারিতে। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল, মুকুল এবং পাকা ড্রাগন।

২০১৫ সালে মাত্র ১০ টি কাটিং (চারা) দিয়ে শাহিনুর রহমান এ বাগানের সূচনা করেন। গত মাত্র ৬ বছরে যেখানে শোভা পাচ্ছে প্রায় ১ হাজার গাছ। প্রতি সপ্তাহে ২/৩ মণ ফলের পাশাপাশি তিনি প্রতিদিন বিক্রি করছেন গাছের কাটিং বা চারা। বাজারে পাইকারী প্রতি কেজি ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে ৩ শ’ টাকায়। আর প্রতিটি চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা জানান, তার এ চারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী দেশেও রফতানি হচ্ছে।

খুলনা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ দেশের আবহাওয়ায় লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এটি লতানো কাটাযুক্ত গাছ, যদিও এর কোনো পাতা নেই। গাছ দেখতে অনেকটা সবুজ ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন গাছে শুধুমাত্র রাতে স্বপরাগায়িত ফুল ফোটে। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙয়ের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম পরাগায়নও করা যায়। এ গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের/বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ওপরের দিকে তুলে দেয়া হয়।

ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়। এপ্রিল-মে মাসে ফুল আসে আর শেষ হয় নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল ধরা অব্যাহত থাকে। এক একটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১শ’ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে একটি গাছ হতে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব বলেও জানানো হয়।
ড্রাগন চাষি বিএম শাহিনুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১০টি চারা দিয়ে ড্রাগন’র আবাদ শুরু করেন তিনি। গত বছর মাত্র ২১ শতাংশ জমিতে বিক্রি হয়েছিল দুই লাখ টাকা। আর এ বছর ৫১ শতাংশ জমিতে ড্রাগনের চাষাবাদ করেছেন। ড্রাগন চাষে সফল বলেও দাবি তার।

ঘেরের আইলে যা লাগিয়েছিলাম তারপরও এ বছর আশা করছি ৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে। খুলনা জেলায় ফলন ভাল হচ্ছে কিন্তু এ ফলের জনপ্রিয়তা এখনো তেমন বাড়েনি। মানুষের মধ্যে প্রচারণাও কম। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব। প্রতিদিন এলাকার অনেক কৌতুহলী মানুষ আসেন তার বাগান দেখতে। অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে চারা কিনছেন, চাষাবাদও করছেন। এছাড়া উপজেলার নকাটি গ্রামের শামছের মোল্লার ছেলে হাফেজ মোঃ আবুল খায়ের মোল্লা তিনি ৫৭ শতক জমিতে ৩ লক্ষ টাকা খরচ করে ৮ লক্ষ টাকা বিক্রয় করেছেন।

অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ড্রাগন ফল এটি উচ্চ মূল্যের ফসল এবং অত্যন্ত ঔষধিগুণ সম্পন্ন। এটিতে একটানা ৭ মাস ফল পাওয়া যায় এবং বাজারেও প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এজন্য কৃষকদের আমরা প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ প্রদান করার পাশাপাশি মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। আগামীতে এর উৎপাদন আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন ওরফে তুহিন জানান, ড্রাগন ফল বিদেশি ফল হলেও দেশের আবহাওয়া এবং মাটি এটি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ডুমুরিয়াতে বাউ-১, বাউ-২ জাতের ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন গাছে একটানা ৬/৭ মাস ফল পাওয়া যায়। এর বাজার মূল্য বেশি এবং অধিক পুষ্টি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি সম্প্রসারণের কাজ করছি।

ব্লু-গোল্ড প্রকল্পের মাধ্যমে এটি ডুমুরিয়াতে প্রথম বারের মতো চাষ শুরু হয়েছে। এটি অনেক লাভজনক হওয়ায় এটির আবাদ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তরুণ উদ্যোক্তারা এটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। উপকূলীয় এলাকায় এর সফলতার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান জানান, জেলায় অনেকেই ড্রাগন ফলের চাষ করছে। বিদেশি এ ফসল দেশের মাটিতে চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। স্থানীয় বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে এ ফল চাষে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে।

17422

সংবাদটি শেয়ার করুন

একই বিভাগের সকল খবর