- শেখ নাদীর শাহ্ ॥
চিংড়ী ঘেরের উত্তোলনকৃত লোনা পানির তোড়ে পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের তেঁতুলতলা-লতা সড়কের একাংশ ভেঙ্গে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার শংকরদানা খেঁয়াঘাট থেকে কাটামারী বাজার ভায়া তালতলা খেঁয়াঘাট পর্যন্ত ২.৯৪ কি:মি: সড়কের তেঁতুলতলা অংশটি পানির চাপে ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ঐ অংশ দিয়ে পানি অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গত চার দিন ধরে সেখানকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নদী ও চিংড়ী ঘের অধ্যুষিত জনপদের ২.৯৪ কি:মি: দৈর্ঘের এসড়কটির ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৯ টাকা ব্যয়ে আমফান প্রকল্পের আওতায় পূণ:নির্মাণ কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাতউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স মেসার্স (জাকাতউল্লাহ)। গত ২৫/৪/২৫ তাং কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এর কার্যক্রম শুরু করে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল একই বছরের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শম্ভুক গতিতে কাজ শুরুর পর নির্দ্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে তারা।
কাজ বিলম্বিত হওয়ার ব্যাপাওের ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের দাবী, প্রকল্প এলাকা অত্যন্ত দূর্গম ও প্রান্তিক পর্যায়ের হওয়ায় রাস্তার অন্যতম প্রধান উপকরণ বালুর যোগান মেটাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কাঠামারী থেকে বোট ও পাইপ ফিটিংয়ের মাধ্যমে বালু আনতে হয় তাদের। মাছ পথে ড্রেজার ও মেশিনের ত্রুটিজণিত কারণে বালুভরাট কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের পক্ষে বলা হচ্ছে, রাস্তার শেষ অংশের প্রায় ২ থেকে ৩ শ’ ফুট এলাকার বালুভরাট বাকি রয়েছে। এছাড়া শুরুর অংশের অন্তত ১ কি:মি: এলাকায় সাববেইজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙ্গে যাওযার ব্যাপারে তারা জানান, ওই স্থানে কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকা হওয়ায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কের এ অংশ সহজেই আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করতে গিয়ে যোগাযেগ ব্যবস্থার অজুহাতে প্রান্তি জনপদের মানুষকে তারা এক প্রকার বন্দিত্বে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে সড়কটি ধ্বসে গিয়ে নদী ও ঘেরের লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে তাদের দূর্ভোগ রীতিমত চরমে পৌছেছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছেন জনপদের কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরনের পোশাক ভিজিয়ে, বই-খাতা মাথায় তুলে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে সড়কের ভাঙা অংশ। জরুরি চিকিৎসাসেবা সহ হাটে-বাজারে পণ্য পরিবহনে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ খামারিরা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ, ঘের মালিকদের পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনা ও জোয়ারে অতিরিক্ত পানির চাপ নির্মানাধীন সড়ক ভাঙ্গনের কারণ হলেও এরজন্য দায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের কাজের দীর্ঘ সূত্রতা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশণ অধিদপ্তর জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটিজণিত কারণে বালু সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এ সংকট তবে, অতিদ্রুত দ্বিগুন গতিতে কাজ শুরু হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙ্গা অংশে রিং কালভার্ট বা বিকল্প বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো এবং বালু ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাজে অবহেলা সহ্য করা হবে না। বলেও জানান তিন।