- নিজস্ব প্রতিবেদক, তালা ::
সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। মাটি ব্যবস্থাপনা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় অর্ধযুগ ধরেই কাজটি করে চলেছেন উপজেলার বলরামপুর গ্রামে অবস্থিত মের্সাস সানি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা।
স্থানীয়দের অন্তহীন অভিযোগ থাকা সত্বেও ভাটা নির্মাণ শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নসূচক । মেসার্স সানি ব্রিকস নামের ওই ইটভাটার চারপাশে কৃষিজমি ও লোকালয় থাকায় স্থানীয় কৃষকরা সেখানে ভাটা স্থাপনে আপত্তি জানায় । তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হয় ইটভাটা।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সোমবার (২২ডিসেম্বর) সরেজমিনে তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বলরাম গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষ পাড়ে একটি এস্কাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে বেড়িবাঁধের মাটি। অন্য একটি এস্কাভেটর দিয়ে তা আবার সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নদী পাড়ে ঘুরে দেখাযায়, ক্রমাগত মাটি কাটার ফলে বিশাল আকৃতির বেড়িবাঁধ নিঃচিহ্ন করে ফেলা হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে ২০১১ সালে বাস্তবায়ন হওয়া কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প । পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) ২৮৬ কোটি টাকার কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প মের্সাস সানি ব্রিকস এর কাছে যেন পুতুল খেলার সমান । ইচ্ছামত ভাঙ্গা আর গড়ার মাধ্যমে অর্ধযুগের অপ্রতিরোধ্য অদৃশ্য শক্তির জানান দিতেই হয়তোবা মাটিখেগো রুপ ধারন করেছে মের্সাস সানি ব্রিকস কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি পরিষ্কার হতে সানি ভাটার ব্যবসায়ীক শরিকদার হাজ্বী আব্দুর রহমান জানান, বেড়িবাঁধের মাটি কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন জমির মালিক ও স্থানীয় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাটার কাছে বেড়িঁবাধের মাটি বিক্রয় করেছে। তবে বেড়িবাঁধের মাটি কেউ বিক্রয় করতে পারবেন কিনা কিংবা বিক্রয় করতে চাইলেই সেটা কেনা যাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি জানান, সরকার যদি নদী খননের দায়িত্বটা ভাটা মালিকদের দিত তাহলে খননের এত অল্প সময়ে নাব্যতা সংকটে ভুগতো না একসময়ের খরস্রোতা কপোতাক্ষ ।
এবিষয়ে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান জানান, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ভাটা কতৃপক্ষকে কাজ স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।