তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রবল চাপ ও ক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অগ্রসর হচ্ছে। সিলেটের ১৯ আসনসহ সারাদেশে ১৫০টিরও বেশি আসনে দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুরু থেকেই জমিয়ত-বিএনপি জোট বা নির্বাচনী আসন-সমঝোতার গুঞ্জন শোনা গেলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। এরই মধ্যে কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কিছু ‘বেফাঁস মন্তব্য’ ও আলেম-উলামাদের নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্যে মাঠ পর্যায়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিএনপির স্থানীয় প্রার্থীরা জমিয়তকে দোষারোপ করে নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ অবস্থায় তৃণমূল জমিয়তের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ দিচ্ছেন এককভাবে নির্বাচনের দিকে আগাতে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলকে আশ্বস্ত করেছেন-কাঙ্ক্ষিত আসনগুলোতে সমঝোতা না হলে কিংবা জোটের শরীকদলের প্রার্থীরা যদি মাঠে বিদ্রোহী আচরণ করে, তবে সিলেটের ১৯ আসনসহ সারাদেশের ১৫০টিরও বেশি আসনে জমিয়ত নিজস্ব প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।
ইতিমধ্যে দলীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রমও বেগবান হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও কর্মী সভার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন।
বিশেষ করে সিলেট-৩, ৪, ৫, ৬; সুনামগঞ্জ-২, ৩, ৪; মৌলভীবাজার-১, ৪; হবিগঞ্জ-২, ৪ আসনগুলোতে জমিয়ত প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, নারায়ণগঞ্জ-৪,চট্রগ্রাম ৫ নিলফামারী ১ জামালপুর ৩ কিশোরগঞ্জ-১, ময়মনসিংহ,নেত্রকোনা,জেলার কয়েকটি আসন, এবং নরসিংদী, ফরিদপুর,কুমিল্লা, নড়াইল ও চট্টগ্রামের একাধিক আসনেও হেভিওয়েট প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন।
দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে নেতা-কর্মীরা মাঠে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি জমিয়ত শেষ পর্যন্ত ১৫০টিরও বেশি আসনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে বিএনপির, আর সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জমিয়ত সভাপতির নির্বাচনী এলাকা সিলেট ৫ এ পরিকল্পিত ভাবে জামিয়ত ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিএনপির কয়েকজন নেতাদের ইন্ধন দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যাতে করে জমিয়ত বিএনপির সাথে জোটে না যায় এবং মাঝপথে তারা ফায়দা নিতে পারে।