দীপ্ত নিউজ, খুলনা প্রতিনিধি:
বর্তমানে বাজেটে শিক্ষায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এই বরাদ্দ ৫ শতাংশে নিতে চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) প্রযুক্তির মতো আধুনিক বিষয় যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই বিপুল বিনিয়োগের সুফল শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্র কতটা পাচ্ছে, সেটিও পরিমাপ করতে হবে।
তার মতে, একই ধরনের একাধিক বিভাগ চালুর আগে এর প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, ল্যাব সুবিধা এবং দেশে সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনা করা দরকার। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট কিংবা আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং এ ধরনের বিভাগ খোলার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে জিপিএ ৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ বাড়াতে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের অর্জনের কৃতিত্বের অংশ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পাওয়া উচিত। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নয়- মেধা, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। এতে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডিএম’র পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।