শেখ দীন মাহমুদ::
খুলনার পাইকগাছার গড়ইখালীতে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার চেকের টাকা প্রাপ্তি নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। সহায়তা উপকারভোগী সুকুমার মন্ডলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে গত ৭ মার্চ ২২’ বরাদ্দকৃত ৯৮৩০০৮৮ নম্বরের চেকটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু তার স্বাক্ষর জালপূর্বক উত্তোলন করে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সুকুমারের চেকের টাকা ইসলামী ব্যাংক লি: গড়ইখালী শাখায় জমা আছে। সে কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।
এদিকে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, সোনালী ব্যাংক লি: কর্পোরেট শাখা, ঢাকার হিসাব নং-০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩, চেক নং সিসি-১০০-৯৮১৮১৭৪ নম্বরের চেকটি ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য ইসলামী ব্যাংক লি: গড়ইখালী এজন্ট শাখায় দেওয়া হয়। তবে অসাবধানতাবশত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অন্যান্য কাগজপত্রসহ চেকটি হারিয়ে ফেলেন। এনিয়ে ব্যাংক পরিচালক মো: ইয়াকুব আলী গত ১৯ এপ্রিল ২১’ পাইকগাছা থানায় একটি জিডি করেন। যার নং-১০৫৩। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঐসময় নিজেদের সমালোচনা এড়াতে সুকুমারকে নগদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে সুকুমার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে হৃত চেকটি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ২৫ এপ্রিল ২২’ পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সুকুমারের নামে একটি চেক বরাদ্দ হয়।
দাবি করা হচ্ছে, উপজেলার গড়ইখালীর ফকিরাবাদ গ্রামের মৃত বিনোদ মন্ডলের ছেলে সুকুমার মন্ডলের নামে দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দের চেকটি নিতে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুসহ ইউপি চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে চেক বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এরপর গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালক চেকটি কালেকশন করে সুকুমার মন্ডলের হিসাব নম্বরে জমা দেন।
এলাকাবাসী বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার টাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বুঝে পেয়েও সুকুমার মন্ডল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও টাকা আতœসাতের অভিযোগ তুলে মিথ্যাচার করছে। এলাকায় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জনমত গঠনেরও অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সুকুমারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন যা, পুলিশ তদন্ত করছেন বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিচালক মোঃ ইয়াকুব আলী সুকুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরে বরাদ্দকৃত চেকটি হারিয়ে যাওয়ায় থানায় জিডি ও ব্যাংকের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে তাকে নগদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন বলে জানান। এছাড়া সুকুমারের নামীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দকৃত চেকটি কালেকশনপূর্বক তার একাউন্টে জমা করেন বলেও দাবি করেন। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, সুকুমার মন্ডল গত ৩০/০৫/২২ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন যে, শারিরীক অসুস্থ্যতা ও আর্থিক অস্বচ্ছলতার দরুণ তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর তাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে গত ৭ মার্চ ২২’ তার নামে ৪০ হাজার টাকার ৯৮৩০০৮৮ নম্বরের একটি চেক বরাদ্দ হয়। তবে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কেরু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চেকটি জাল স্বাক্ষর করে উত্তোলন করেন। অভিযোগে তিনি চেয়ারম্যানর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন ও বরাদ্দকৃত চেকটি পুনরুদ্ধারের আবেদন জানান।
এ অভিযোগের বিষয়ে সুকুমার মন্ডল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইঞ্জিনিয়ার প্রেম কুমার মন্ডলের মাধ্যমে একটি ও সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বর্তমান এমপি আক্তারুজ্জামান বাবুর মাধ্যমে অপর আবেদনের প্রেক্ষিতে ৪০ হাজার টাকার আরো একটি চেক বরাদ্দ হয়। দু’টি চেকই তার বলে দাবি করেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে একই ব্যক্তির নামে একাধিকবার চেক ইস্যু হওয়ার কোন সুযোগ নেই। মুলত: সুকুমার মন্ডলের চেক হারানোর আবেদনের প্রেক্ষিতে তার নামে দ্বিতীয় চেকটি বরাদ্দ হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, প্রথম চেকটি হারিয়ে যাওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সমালোচনা এড়াতে তাকে নগদ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। দ্বিতীয় চেকটি বরাদ্দ হওয়ায় তারা নিজেদের টাকা বাঁচাতে তার কাছে আগের প্রদেয় টাকা ফেরৎ চায়। টাকা ফেরৎ না দিলেও দ্বিতীয় দফার টাকা তারই একাউন্টে জমা রয়েছে। এখানে লাভ-লোকসান সুকুমার ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সুতরাং চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি কিংবা তার বিরুদ্ধে আতœসাতের অভিযোগকরার কোন সুযোগ নেই।
এব্যাপারে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার চেক সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংক পরিচালক জিডিসহ একটি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।