খোরশেদ আলম::
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খাঁপুর দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২২’ উপজেলা নির্বাহী অফিাসার ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসক রাজশাহী বরাবরে মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমান, তুতাউর রহমান, এরশাদ আলী, হাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম সান্টু ও আহমদ হোসেন স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে জানানো হয় যে, গত ২২ এপ্রিল ২২’ দুপুরে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। খাঁপুর দাখিল মাদ্রাসায় গোপনে ম্যানেজিং কমিটি তৈরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজিজুর রহমান স্বীয়স্বার্থ হাসিল করতে বারবার পকেট কমিটি গঠন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে আসছেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্রাদি পরীক্ষা বা পর্যালোচনা করলে বেরিয়ে আসবে তার দুনীতি অনিয়মের প্রমাণ। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়া মাদ্রাসায় করার কথা থাকলে সুপার তার নিজের পছন্দের সদস্য নিয়ে মাদ্রাসার এ পকেট কমিটি গঠন করেন।
মাদ্রাসা কমিটি সভাপতি নির্বাচন করার এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, সুপার স্বজনপ্রীতি করে একটি পকেট কমিটি গঠন করে শান্ত পবিবেশকে অশান্ত করে তুলছেন।
এ ছাড়া সুপার মাদ্রাসায় যোগদান করার পর মাদ্রাসায় তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি বিভিন্ন সময়ে আসা বরাদ্দ-অনুদানের টাকাও ব্যয় করা হয়নি দৃশ্যমান উন্নয়নে। কাগজ-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপবৃত্তির তালিকাতেও নয়-ছয়ের অভিযোগ সুপারের বিরুদ্ধে।
নিয়ম বহির্ভূত প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়ে গঠিত ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করে পূনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার দাবীতে এলাকাবাসি এসব লিখিত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরের দায়ের করেন।
এ পকেট কমিটি বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার সময় খাঁপুর গ্রামে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। এ সময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধা ওসমান আলী, বাগমারা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পক্ষে আঃ সালাম, ছাত্র অভিভাবক মিজানুর রহমান, আবুল কালাম, আমজাদ হোসেন সহ আরো এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, এবারের কমিটি নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে হয়নি। সুপার মনগড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি পকেট কমিটি গঠন করে মাদ্রাসাসহ গ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ অশান্ত করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।